বগুড়ার শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কারকাজ করায় জন্য খুঁড়ে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা মাইকিং করে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ওপর বর্ষার বৃষ্টিতে খোড়া সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই আঞ্চলিক সড়কটির দুবলাগাড়ী এলাকায় সংস্কারকাজ করছে ‘হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, কাজ ধীরগতিতে করার পাশাপাশি ব্যবহারের উপকরণের মানও বেশ নিম্নমানের। সড়কটির সম্পূর্ণ অংশ ইতিমধ্যে কেটে রাখা হলেও বিকল্প চলাচলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান এই মাধ্যমটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি ব্যবহার করে বগুড়া হয়ে খুব অল্প সময়ে রাজশাহী জেলায় যাওয়া যায়। এছাড়া জনবহুল এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে চাল ও পশুখাদ্যের (ফিড) মিলসহ প্রায় ৩০টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা। প্রতিদিন এসব কারখানা থেকে চাল, ধান ও ফিড বোঝাই ৪০ থেকে ৬০টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। সড়ক বন্ধ ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় পণ্যবাহী এসব যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী বেলাল আহম্মেদ, সুলতান, আশাদুল ও আল-আমিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মিলগুলো থেকে প্রতিদিন ধান ও চালের ট্রাক লোড-আনলোড করতে হয়। রাস্তা এভাবে মাসের পর মাস খুড়ে রাখার কারণে ব্যবসা এক প্রকার বন্ধের মুখে। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে।
সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালক ও পথচারী সাব্বির, আয়নাল হক, আপেল মাহমুদ ও আশরাফুল জানান, সড়ক জুড়ে গর্ত ও কাদা তৈরি হওয়ায় গাড়ি নিয়ে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে যাতায়াত করছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরো রাস্তা একবারে বন্ধ না করে অন্তত একপাশ দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী রেখে সংস্কারকাজ চালানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের তদন্ত করে দ্রুততম সময়ে সড়কের কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। দায়ি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইটেক ইঞ্জিনিয়া লিমিটেড এর রানার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা কামাল বলেন, মাইকিং করে রাস্তা বন্ধ করে দ্রুত কাজ করার কথা ছিলো কিন্ত রাস্তা খুঁড়ার পর বৃষ্টি হয়েছে মানুষের যাতায়াতে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে রাস্তা এখনও বন্ধ করা হয়নি। অতি জরুরি কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর