চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতির নির্মম শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী অর্পিতা দাশ। একই সাথে মৃত্যু বরণ করেছে তাঁর গর্ভের সন্তানটিও।
গতকাল (১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অর্পিতা। মায়ের মৃত্যুর পরপরই প্রসব করানো হয় মৃত পুত্রসন্তান ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্পিতা দাশের স্বামী কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরী। গত বছরের ১৬ অক্টোবর ঘর বাঁধেন এই দম্পতি। এক পর্যায়ে সংসারে নতুন সদস্যের আগমনের প্রহর গুনছিলেন এই পরিবারটি৷ কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই অর্পিতার জ্বর দেখা দিলে ডাক্তারী পরীক্ষায় ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
পরদিন, ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে নগরীর মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু অর্পিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, অর্পিতা ‘ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোম’-এ আক্রান্ত ছিলেন, যা ডেঙ্গুর অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক রূপ। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন ৩৫ সপ্তাহের গর্ভবতী অর্পিতা দাশ। সেই সাথে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মায়ের গর্ভে মৃত্যু হয় তাঁর সন্তানের৷ বিয়ের এক বছর পূর্তির আগেই স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগেই (গত বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামে সন্তান জন্মদানের এক মাস পর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন রাশেদা বেগম রিমা নামে অপর এক নারী।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর