সরকারবিরোধী মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রাজধানীর গুলশানে সরকারবিরোধী মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
তবে আরাফাত নামের এক আসামিকে শিশু দাবি করে তার আইনজীবী বক্তব্য দেওয়ায় তার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন—আ. রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আদালতে তিনি বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ষড়যন্ত্রকারী এবং অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, ঘটনায় জড়িত অন্যদের অবস্থান শনাক্ত এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, আরাফাতকে শিশু দাবি করে তার আইনজীবী আদালতে বক্তব্য দেন। পরে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরাফাতের বয়সসংক্রান্ত বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য রোববার অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
এজাহার অনুযায়ী, তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাবেশ করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর