সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম বলেছেন, মাদক শুধু একজনকেই ধ্বংস করেনা, এটি পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। এর বিরুপ প্রভাব পড়ে গোটা জাতির উপর। তাই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক আন্দোলনেই পারে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে। তাই আসুন সকলে মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।
তিনি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে মাদবিরোধী সমাবেশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন।
বিলকিস ইসলাম আরও বলেন, সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা ও সকলকে মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি খাতামধুপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি এ ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে পারেন তাহলে সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার পাবে ইউনিয়নবাসী।
সচেতন নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক খাতামধুপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর আয়োজনে ইউনিয়নের হামুরহাট বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খাতামধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বায়েজিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনেয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, নীলফামারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ পারভেজ লিটন, বিএনপি নেতা আনিসুল হক চৌধুরী, হাজারী হাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান চৌধুরী, খালিশা বেলপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন প্রমুখ।
আরও বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর জেলা যুবদলের আহবায়ক তারিক আজিজ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, সদস্য সচিব পারভেজ আলম গুড্ডু, ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রাব্বি, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিজু বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান সরকার দিনার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফ্রেড টিটো চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা তাঁতীদলের আহবায়ক আনিস আনসারী, সদস্য সচিব জুয়েল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিলকিস ইসলাম এমপি বলেন, যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে সৎ পথে ফিরে আসবে, আমরা তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিব।
সমাবেশের আয়োজক জুয়েল চৌধুরী মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামি ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে মাদক ব্যবসা ত্যাগ করে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় ১৫ দিন পরে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তাদের পক্ষে যদি কেউ সুপারিশ করে ওই সুপারিশকারীকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবিদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা।
সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান খান বলেন, আমরা সীমিত জনবল নিয়ে গোটা নীলফামারী জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকও উদ্ধার করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর