লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তুলনায় গোল, ব্যক্তিগত পুরস্কার ও রেকর্ডের পাশাপাশি শিরোপার হিসাবও সবসময় আলোচনায় থাকে। ইন্টার মায়ামির হয়ে ২০২৬ ক্যাম্পেওনেস কাপ জয়ের পর মেসির ক্যারিয়ারের অফিসিয়াল দলীয় শিরোপা দাঁড়িয়েছে ৪৮টি। অন্যদিকে ২০২৫–২৬ মৌসুমে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগ জেতার পর রোনালদোর শিরোপা ৩৮টি। অর্থাৎ এই হিসাবে দুজনের ব্যবধান ১০টি।
মেসির শিরোপার তালিকায় বড় পরিবর্তন আসে আর্জেন্টিনার হয়ে সাফল্যের পর। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় সিনিয়র ট্রফি জেতেন তিনি। এরপর ২০২২ সালের ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা তার সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করে। এর সঙ্গে রয়েছে ২০০৫ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও ২০০৮ সালের অলিম্পিক সোনা।
ক্লাব ফুটবলে মেসির সবচেয়ে বড় সাফল্য বার্সেলোনায়। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে তিনি জিতেছেন ৩৫টি শিরোপা। পিএসজির হয়ে যোগ হয়েছে আরও তিনটি। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন চারটি ট্রফি—২০২৩ সালের লিগস কাপ, ২০২৪ সালের সাপোর্টার্স শিল্ড, ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ক্যাম্পেওনেস কাপ।
অন্যদিকে রোনালদোর ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে। স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে বিভিন্ন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছেন তিনি। ২০২৩ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর তার সংগ্রহে যুক্ত হয় আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ এবং ২০২৫–২৬ মৌসুমের সৌদি প্রো লিগ। পর্তুগালের হয়ে রয়েছে ইউরো ২০১৬ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের শিরোপা।
মেসির ৪৮ শিরোপা
বার্সেলোনা — ৩৫
লা লিগা ১০, কোপা দেল রে ৭, স্প্যানিশ সুপার কাপ ৮, চ্যাম্পিয়নস লিগ ৪, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ৩ ও ক্লাব বিশ্বকাপ ৩।
পিএসজি — ৩
লিগ ওয়ান ২ ও ফরাসি সুপার কাপ ১।
ইন্টার মায়ামি — ৪
লিগস কাপ ২০২৩, সাপোর্টার্স শিল্ড ২০২৪, এমএলএস কাপ ২০২৫ ও ক্যাম্পেওনেস কাপ ২০২৬।
আর্জেন্টিনা — ৬
ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০০৫, অলিম্পিক ২০০৮, কোপা আমেরিকা ২০২১ ও ২০২৪, ফিনালিসিমা ২০২২ এবং বিশ্বকাপ ২০২২।
রোনালদোর ৩৮ শিরোপা
স্পোর্টিং লিসবন — ১
পর্তুগিজ সুপার কাপ ১।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড — ১০
প্রিমিয়ার লিগ ৩, চ্যাম্পিয়নস লিগ ১, ক্লাব বিশ্বকাপ ১, এফএ কাপ ১, কমিউনিটি শিল্ড ২ ও লিগ কাপ ২।
রিয়াল মাদ্রিদ — ১৬
চ্যাম্পিয়নস লিগ ৪, লা লিগা ২, কোপা দেল রে ২, ক্লাব বিশ্বকাপ ৩, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ৩ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ ২।
জুভেন্টাস — ৫
সিরি আ ২, কোপা ইতালিয়া ১ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ ২।
আল নাসর — ৩
আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ ২০২৩ এবং সৌদি প্রো লিগ ২০২৫–২৬সহ মোট তিনটি শিরোপা—সাম্প্রতিক কিছু হিসাব অনুযায়ী।
পর্তুগাল — ৩
ইউরো ২০১৬ এবং নেশন্স লিগ ২০১৯ ও ২০২৫।
মেসি ও রোনালদোর শিরোপার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ কোন প্রতিযোগিতাকে অফিসিয়াল দলীয় ট্রফি হিসেবে গণনা করা হবে, তা নিয়ে মতভেদ। বিশেষ করে মেসির ২০২৫ সালের ইস্টার্ন কনফারেন্স শিরোপা কেউ মোট সংগ্রহে যোগ করেন, আবার কেউ করেন না। তাই কোনো তালিকায় ৪৮, আবার কোথাও ভিন্ন সংখ্যা দেখা যেতে পারে।
তবে ২০২৬ সালের ক্যাম্পেওনেস কাপের পর মেসির ৪৮টি অফিসিয়াল দলীয় শিরোপা—এবং রোনালদোর ৩৮টি—এই হিসাবটি একাধিক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর