গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্থায়ী সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ কোনো দেশ ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সংবেদনশীল বিনিয়োগের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।
বাড়তে পারে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির কারণে দ্বীপটিতে মার্কিন বিমান চলাচল ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে দেশটির ব্যাপক অধিকার রয়েছে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটিও রয়েছে।
তবে নতুন চুক্তির ফলে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো পরিষ্কার নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ ‘স্থায়ীভাবে ও সম্পূর্ণভাবে’ সমাধান করেছে।
প্রতিপক্ষ দেশের ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নির্দিষ্ট কিছু ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ করার সুযোগ থাকবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হবে। ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলেও এসব অধিকার বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দ্বীপটির বাসিন্দাদের একটি অংশ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তির অনেক বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারবে কি না, সেটিও পরিষ্কার হয়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর