দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এ আবেদন করেন।
এর আগে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। তারা রাজধানীর শেরেবাংলানগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। সেখানে নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মরিয়মের মরদেহ ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা একটি চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে সম্পর্কের টানাপড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিঠিটি মরিয়মের নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; তদন্তের অংশ হিসেবে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় এবং পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। রিমান্ডের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর