কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সীমিত জনবলেও বেড়েছে স্বাস্থ্য সেবার মান। বহিঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ নরমাল ডেলিভারিতে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। সাথে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা থেকে আয়ও বেড়েছে হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশষজ্ঞসহ হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ রয়েছে ৩০ টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ জন । এর মধ্যে ১ জন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে কর্মরত অপরজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। অপর দিকে নার্স ও মিডওয়াইফ নার্স মিলে ৩৩ জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৮ জন। সীমিত জনবল সত্বেও চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ নার্সদের আন্তরিকতা আর দক্ষতার কারণেই স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত তিন মাসে ( জুন, জুলাই ও আগস্ট ) বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৩ হাজার ৭০১ জন রোগী। অপর দিকে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা থেকে ৩ মাসে আয় হয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৭ টাকা। আর নরমাল ডেলিভারি ( স্বাভাবিক প্রসব) হয়েছে জুন মাসে ৪৩ জন, জুলাই মাসে ৪৩ জন ও আগস্ট মাসে ৪৯ জন।
সরেজমিনে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক নরমাল ডেলিভারি কক্ষ রয়েছে। সেখানে পরম যত্নে মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি সনদ দেওয়া হয়। যার ফলে সহজেই জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন শিশুর পরিবার।
সিজারিয়ান অপারেশন না করে নরমাল ডেলিভারিতে জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচির গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেলিভারির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলতে থাকে কাউন্সিলিং আর চেকআপ। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। নরমাল ডেলিভারিতে মায়েরা খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করতে পারেন বলে জানান চিকিৎসকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি হওয়া গোপালপুর গ্রামের আয়েশা বেগম ও বাগভান্ডার গ্রামের ফরিদা পারভিনের সাথে কথা হয়।
তারা জানান, শুরুতে তাদের নরমাল ডেলিভারিতে ভয় লাগলেও নার্স ও চিকিৎসকদের আশ্বাসে হাসপাতালে এসে নিরাপদে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। ধামেরহাট থেকে আসা সেলিনা বেগম জানান, ৩দিন থেকে ছেলের জ্বর। হাসপাতালে ৩ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখালাম। হাসপাতাল থেকে ওষুধও দিয়েছে। একটা ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে অনেকেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। শূন্য পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে জনগণের দোরগোড়ায় আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর