ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৃহস্পতিবারের ভাষণকে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘে ভাষণের মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় পর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা, ওই ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনে অনীহা, হেরেদি ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ এবং সমাজে উগ্রতার প্রবণতা নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু মূলত ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিতে চাইবেন বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। গাজা, লেবানন ও ইরান ইস্যুতে নিজের সরকারের পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
গাজা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ, হামাসের সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করার দাবি এবং সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে পারেন। তবে হামাসকে কীভাবে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবানন ইস্যুতেও হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার বিষয়টি সামনে আনতে পারেন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর লেবাননের সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার একটি পরিকল্পনা চললেও হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি অস্ত্রত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইরান ইস্যুতেও নেতানিয়াহু সামরিক অভিযানের ফলাফলকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আগের তুলনায় সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও দেশটির নতুন নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
এ কারণে জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করতে পারেন বলে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ সময় তার পরিচিত তথ্যচিত্র বা গ্রাফিক্স ব্যবহারেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকলেও বর্তমানে ট্রাম্প দ্রুত নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর দিকে এগোচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না।
বরং ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প ওই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যেখানে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে পারেন, সেখানে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোচ্ছেন। ফলে জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বার্তা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর