অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্যসেবা ও এইজড কেয়ার, নির্মাণ, শিক্ষকতা, কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ—এই সাত খাতের নির্ধারিত পেশাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থা গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর মিনিস্টেরিয়াল ডিরেকশন ১২১ ও ১২২ জারি করেছে। এর মাধ্যমে আগের ডিরেকশন ১১৯-এর পরিবর্তে দক্ষ কর্মী ভিসা আবেদনের নতুন প্রক্রিয়াকরণ ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন অগ্রাধিকারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট, সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর, সোশ্যাল ওয়ার্কার, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানসহ নির্ধারিত বিভিন্ন পেশা এতে অন্তর্ভুক্ত। সরাসরি এইজড কেয়ার সেবার সঙ্গে যুক্ত এইজড অর ডিজঅ্যাবল্ড কেয়ারার (৪২৩১১১), নার্সিং সাপোর্ট ওয়ার্কার (৪২৩৩১২) এবং পার্সোনাল কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট (৪২৩৩১৩) পেশাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
নির্মাণ খাতের কনস্ট্রাকশন ট্রেড কর্মী, কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার, ইলেকট্রিশিয়ান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বিল্ডিং ও সার্ভেয়িং টেকনিশিয়ান, ওয়েল্ডার ও স্টিল কর্মী, ক্রেন ও লিফট অপারেটর এবং আর্থমুভিং প্ল্যান্ট অপারেটরসহ নির্ধারিত পেশাগুলোও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
শিক্ষা খাতে স্কুলশিক্ষক, স্কুল প্রিন্সিপাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভোকেশনাল এডুকেশন শিক্ষক ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পেশা গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ খাতের নির্ধারিত পেশাগুলোও রয়েছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।
অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের স্কিলস ইন ডিমান্ড সাবক্লাস ৪৮২ ভিসার ক্ষেত্রে ডিরেকশন ১২১ কার্যকর হয়েছে। প্রথম ধাপে সাত অগ্রাধিকার খাতের নির্ধারিত পেশা এবং আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে।
এরপর রয়েছে ৪৮২ ভিসার স্পেশালিস্ট স্কিলস স্ট্রিম। পরবর্তী ধাপে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য আবেদনকারী এবং তার পর বিদেশ থেকে করা অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে। পুরনো টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ সাবক্লাস ৪৮২-এর যেসব আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলোও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।
স্থায়ী ও আঞ্চলিক দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে ডিরেকশন ১২২ কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম ১৮৬, স্কিলড ইন্ডিপেনডেন্ট ১৮৯, স্কিলড নমিনেটেড ১৯০, পার্মানেন্ট রেসিডেন্স স্কিলড রিজিওনাল ১৯১, স্কিলড রিজিওনাল ৪৮৯ ও ৪৯১, স্কিলড এমপ্লয়ার স্পন্সরড রিজিওনাল ৪৯৪সহ বিভিন্ন ভিসা।
এসব ভিসার ক্ষেত্রেও সাত অগ্রাধিকার খাতের নির্ধারিত পেশার আবেদন প্রথম গ্রুপে রাখা হবে। আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থাকুন বা বিদেশে—এই অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য আবেদনকারী এবং পরে বিদেশ থেকে করা অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে।
তবে নতুন নির্দেশনায় ভিসার যোগ্যতা বা আবেদনের মৌলিক শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। পরিবর্তন এসেছে মূলত আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ক্রমে। নির্ধারিত পেশা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা, স্পন্সরশিপ বা নমিনেশনসহ সংশ্লিষ্ট ভিসার বিদ্যমান শর্তগুলো বহাল রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া এবং এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনও নতুন অগ্রাধিকার অনুযায়ী প্রক্রিয়া করা হবে।
সিডনিভিত্তিক স্কিলওয়েব গ্লোবালের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা দীর্ঘদিনের। নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা ও এইজড কেয়ারসহ যেসব খাতে কর্মীর প্রয়োজন বেশি, সেগুলোকে সামনে আনা হয়েছে। ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্যও এটি অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
প্রবাসে বাংলা এর সর্বশেষ খবর