শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের নানা সংকটের মধ্যেও গত এক বছরে চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডেন্টাল ইউনিট, কেবিন, প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা, আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালুসহ জরুরি বিভাগ সংস্কার ও রোগী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকা সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধ এবং স্টোর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালুর ফলে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়ে ফিরেছে স্বচ্ছতা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার চাহিদার বিপরীতে জনবল সংকট এখনো হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বাড়তি চাপ রয়েছে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. এ এস এম মফিদুল ইসলাম যোগদানের পর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে বিভাগগুলোকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে আগে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা পাওয়া যেত না। বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৩টি পর্যন্ত এবং মাসে ৪০০টির বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এতে স্থানীয় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ভোগান্তি কমেছে। প্যাথলজি বিভাগেও যুক্ত হয়েছে সেল কাউন্টার মেশিন। এতে রক্ত পরীক্ষার গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগের রাজস্ব আয় আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। হাসপাতালের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ও আগের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জরুরি বিভাগে সংস্কার ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোগীদের জন্য কেবিন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হওয়ায় দৃষ্টি সমস্যার রোগীদেরও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডেন্টাল ইউনিটের কার্যক্রমও আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত ‘সার্টিফিকেট বাণিজ্য’ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টোর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু করায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মাদক ও অসামাজিক আড্ডা বন্ধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্মীদের দায়িত্ববোধ ও মনোবল বাড়াতে দলগতভাবে কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালটির বড় সীমাবদ্ধতা এখনো জনবল সংকট। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩১ শয্যার কাঠামোর জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এসব উদ্যোগে স্থানীয় রোগীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। তবে নতুন সেবাগুলো কতটা স্থায়ী ও কার্যকরভাবে চালু রাখা যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম মফিদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি উপর মহলে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে জনগনের সেবার মাধ্যমটি তাকে করে বিবেকতারিত করে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর