চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট দক্ষিণপাড়ায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণপাড়া মাদকবিরোধী সামাজিক জোট ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে গাইদঘাট গ্রামের দক্ষিণপাড়া মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদকবিরোধী সামাজিক জোটের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক অংশ নেন।
মানববন্ধনে মাদকবিরোধী সামাজিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক আজ সমাজের সর্বস্তরে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গাইদঘাট দক্ষিণপাড়াকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে গাইদঘাট দক্ষিণপাড়ায় মাদক ও অস্ত্র সদৃশ্যবস্তুসহ মাদক ব্যবসায়ী হানিফ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন এলাকার মাদকবিরোধী যুবসমাজ। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় হানিফকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী হানিফের সহযোগ নুরুল নামের এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মিথ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করেন। এলাকাবাসীর দাবি এসব অভিযোগের প্রতিবাদেই এবং মাদকবিরোধী সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবিতে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী বলেন মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করি গত বৃহস্পতিবার হানিফ মাদকসহ আটক হয় সে তার ব্যবসায়িক সহযোগী নুরুল আমাদেরকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে যেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার না নিয়ে পুলিশ আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। এসআই জামাল নামে একজন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা থেকে এসে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন , আমাদের যুব সমাজকে নিয়ে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এ এস আই জামাল আহমেদ বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি তাদের মাদক বিরোধী কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের বাজে মন্তব্য করি নি। আমার কাছে বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ এসেছে আমি সেটা তদন্ত করতে গিয়েছি, এছাড়া কিছুই নয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির বিষয়ে এএসআই জামাল আহমেদ কোনো নেতিবাচক কথা বলে থাকলে বিষয়টি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হবে।
ওসি মনিরুজ্জামান আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও এ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর