দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের আটটি গ্রামের মানুষ, হঠাৎ সেই কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ভোটাররা। আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবিতে উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহস্রাধিক ভোটার।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের ভোটারদের আয়োজনে একটি বিক্ষোভ মিছিল কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা। এসময় ‘আগের ভোটকেন্দ্র বহাল চাই’, ‘চক্রান্ত রুখে দাও’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ ভোটাররা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আনারুল ইসলাম, মিলু মিয়া, রফিকুল ইসলাম, হাসমত আলী, ইউনুছ আলী ও ওয়ারেজ আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ৩০ বছর ধরে পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কেন্দ্রটি আটটি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত হওয়ায় ভোটাররা সহজে ভোট দিতে পারেন। একটি মহল চক্রান্ত করে কেন্দ্রটি সরিয়ে ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের সুপারিশ করেছে। নতুন প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি বর্তমান স্থান থেকে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে এবং সেখানকার রাস্তাঘাট অত্যন্ত নাজুক। বর্ষাকালে এলাকাটি কর্দমাক্ত থাকায় বয়স্ক নারী ও পুরুষদের পক্ষে সেখানে গিয়ে ভোট দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভোটাররা আগের কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মওলা লিটন মিয়া বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো কাগজপত্র এখনো পাননি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর সরকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। বর্তমানে এটি জেলা কার্যালয়ের এখতিয়ারে নেই। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভোটারদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর