ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিকাব পরার কারণে ক্লাসে হেনস্তা ও কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বিভাগের সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডাকা হয়। সভায় অভিযোগ ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ক্লাসে নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ওই শিক্ষক পর্দা করার ধরন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি ওই শিক্ষার্থীকে মুখ খোলা রাখার এবং হাত-পা না ঢাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নিকাব পরা অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে সামনে না বসে অন্যদের সঙ্গে পেছনে বসতে বলেন।
এ সময় এক শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গেও শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নিকাব পরা শিক্ষার্থী ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে আরও দুজন শিক্ষার্থী বের হয়ে যান। একপর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের এক শিক্ষার্থী সুমি আকতার তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ক্লাসে পরিপূর্ণ পর্দা করা এক সহপাঠীকে উদ্দেশ করে শিক্ষক তার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন এবং নিকাব পরা অবস্থায় তাকে পেছনে বসতে বলেন।
ওই শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি এর প্রতিবাদ করে বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক তার সঙ্গে তর্কে জড়ান বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সুমি আকতার আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে শিক্ষক নিকাব পরা ওই শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ কি না—এমন প্রশ্ন করেন। এ মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর