সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে একই দিন কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করে মহিপুর থানা পুলিশ। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনসান উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করতেন। এ পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বাগেরহাট এলাকার এক তরুণীর সঙ্গেও একইভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে ওই তরুণীকে নিয়ে কুয়াকাটায় আসেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় এসে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কুয়াকাটার হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়।
জলিলের স্ত্রী তামান্না অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী এর আগেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। একবার নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণীকে কুয়াকাটায় এনে একটি হোটেলে রাখার ঘটনাও তারা জানতে পারেন। পরে ওই তরুণীর স্বজনরা এসে তাকে নিয়ে যান। পাঁচ বছরের সংসারে তাদের দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর কারণে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হোটেল মারওয়ার ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে জলিল হোটেলের স্টাফের মাধ্যমে একটি কক্ষ বুকিং নিয়ে প্রবেশ করেন। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী তাদের কক্ষে উঠতে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে জলিলকে আটক করে। তখনই তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মনির বলেন, সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে জলিল দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন, জলিল তার মেয়েকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় এসে তাদের শনাক্ত করেন। পরে জানতে পারেন, জলিল আসলে সেনাবাহিনীর সদস্য নন; তিনি পেশায় একজন জেলে।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক বলেন, এসআই মাসুদের সহযোগিতায় হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়। নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। এর আগেও একই ধরনের আরও দুটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তার স্ত্রীও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার তথ্য পেলে প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর