লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও পর্ণোগ্রাফির মামলায় মো. নুরনবী নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার(১২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ের নথি সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুরনবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড এবং একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে।
অন্যদিকে, মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা নুরুল হক হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগীকে তার বাবা শাক ক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে আসামি নুরনবী অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন। মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর