নেত্রকোনার চল্লিশা কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে চল্লিশা পূর্ব বাজার জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হামলার সময় পবিত্র কোরআন শরিফও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, চল্লিশা পূর্ব বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও তালিমের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় ২২ বছর ধরে চলে আসা এ ধর্মীয় কার্যক্রমের সময়সূচি ও রুটিন নিয়ে সম্প্রতি মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, বিরোধের একপর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁদের রড দিয়ে মারধর করা হয়। পাশাপাশি মাদ্রাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং পবিত্র কোরআন শরিফ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী তানভীর জানান, ফজরের নামাজের পর মসজিদে নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম চলাকালে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ এতে বাধা দেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানানোর পরও বিরোধের সমাধান হয়নি। পরে তিনি তাঁর ছেলে ও অন্যদের নিয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তানভীর।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সাকিব অভিযোগ করেন, হামলার সময় আশপাশের লোকজনকেও মারধর করা হয়। এমনকি পাশের একটি বাড়িতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা লোকজনের সঙ্গে অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে।
হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর