মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে একই স্বামীর কাছে এক নারীর দুইটি কাবিনের মাধ্যমে পর পর দুই বার বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ) জুড়ীতে স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী স্বামী ইমান উদ্দিন।
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ ভাগ ইউনিয়নের দোহালিয়া গ্রামের রশিদ আহমদের পুত্র ইমান উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের হেলাল মিয়ার কন্যা তানজিনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই তানজিনা বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করে। স্ত্রীর চলাফেরা সন্দেহজনক হলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তানজিনা পরকীয়ায় আসক্ত। ইমান উদ্দিন স্ত্রী কে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়লে ইমান উদ্দিনকে পরিবারের লোকজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এ সুযোগে তানজিনা পরকীয়া প্রেমিক পারভেজ এর হাত ধরে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যায় ।এনাম উদ্দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসলে পরিবারের লোকজন বুঝিয়ে শুনিয়ে তানজিনাকে পিতার বাড়ী থেকে স্বামীর সংসারে নিয়ে আসেন। তানজিনা বেড়ানোর নাম করে বাবার বাড়ীতে গিয়ে আর স্বামীর সংসারে ফিরে আসেনি। তানজিনা জানিয়ে দেয় আর স্বামীর সংসার করবে না।
পরে ইমান উদ্দিনের বাড়ীতে ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে দক্ষিণ ভাগের ছানি কাজী হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে উভয় পরিবারের সম্মতিতে স্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর দেওয়ার শর্তে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে গত ২২/৮/ ২০২৪ সালে যৌথ তালাক হয়ে যায়। এসময় কাজি হুমায়ুন কবির তিনশত টাকার খালি স্টাম্পে এনাম উদ্দিনের স্বাক্ষর নেন। তিন মাসের মধ্যে কাজির নিকট ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে স্টাম্প ফেরত আনার সিদ্ধান্ত হয়। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর গত ৩০/১০/২০২৪ সালে কাজী হুমায়ুন করির এমান উদ্দিনকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে দুটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। তখন ইমান উদ্দিন স্বাক্ষরের কারণ জানতে চাইলে কাজী বলেন ডিভোর্স লেটারের জন্য স্বাক্ষর করতে হবে। তখন এমান উদ্দিন সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর দেন।
কিছুদিন পর ৫০ হাজার টাকা জোগার হলে এনাম উদ্দিন তার পিতা সহ কাজী অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজির হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তার স্বাক্ষরিত তিনশত টাকার খালি স্ট্যাম্প ফেরত চান। তখন কাজী হুমায়ুন কবির ইমাম উদ্দিনের পিতাকে বলেন, চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমোহরে তানজিনার সাথে ইমান উদ্দিনের পুনরায় বিয়ে হয়ে গেছে। স্টাম্প ফেরত নিতে হলে পুরো চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগবে। তানজিনার পরিবার ও কাজির ভয়ভীতি ও চাপের মুখে এনাম উদ্দিন বাধ্য হয়ে তানজিনার সাথে ঘর সংসার শুরু করেন। কিছুদিন পর তানজিনা এমান উদ্দিনের ঘর থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে পরকিয়া প্রেমিক পারভেজের হাত ধরে পালিয়ে যায়। পরে এনাম উদ্দিন ও তার বৃদ্ধ বাবা ভাই বোনদের আসামী করে যৌতুকসহ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। সংবাদ সম্মেলনে এনাম উদ্দিন সরকারের কাছে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে দক্ষিণ ভাগের ছানি কাজী হুমায়ুন কবির মুঠোফোন বলেন, আইন অনুযায়ী আমি কাবিন করিয়েছি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর