গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত বিছালি বা খড়ের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন নড়াইলের সদর ও লোহাগড়া উপজেলার ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাসের ব্যবধানে বিছালি বা খড়ের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মজুতদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কৃষকের কাছ থেকে বিছালি কেনা, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও সংরক্ষণ খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজারে দাম কম থাকায় আগের দামে কেনা বিছালি খড় বিক্রি করে পুঁজি ফেরত পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ব্যবসায়ীরা জানান, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিছালি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করা হয়। খুলনা, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাঁচচর, সদরপুর, ভদ্রসন ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব খড়ের বাজার রয়েছে। তবে স¤প্রতি খড়ের দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসায় তাদের লাভের পরিমাণ কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে খরচ তুলতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ আটি করে ১৩০ আটিতে এক কাউন বিছালি হয়। আগে মাণভেদে প্রতি কাউন বিছালির দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দুই-তিন মাস আগে ভালো মানের বিছালি প্রতি কাউন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরেও কিনেছেন। ফলে আগের দামে কেনা বিছালি-খড় এখন কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নখখালী গ্রামে বিছালি কেনার সময় কথা হয় মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বিছালি ব্যবসায়ী আরমানের সাঙ্গে। তিনি বলেন,‘আমি এলাকার ব্যাপারীদের কাছ থেকে বিছালি কিনে খুলনা, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাঁচচর, সদরপুর, ভদ্রসন ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতি কাউন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিছালি কিনছি। কিন্তু এখন বাজারে দাম কম। ব্যাপারীদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনলেও বিক্রি করতে গিয়ে সেই দাম পাচ্ছি না। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।,
আরমান আরও বলেন, ‘দুই-তিন মাস আগেও প্রতি কাউন বিছালি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে কিনেছি। এখন দাম কমে যাওয়ায় আগের মজুত বিক্রি করে খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হবে।,
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,‘বিছালি-খড় গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহের পর তা পরিবহন, শ্রমিক দিয়ে ওঠানো-নামানো এবং সংরক্ষণের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু বিক্রির সময় দাম কম থাকায় এসব খরচ সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে পুঁজি আটকে থাকছে, অন্যদিকে নতুন করে বিছালি কেনার অর্থ সংকট দেখা দিচ্ছে।’
স্থানীয় রেজুয়ান শেখ বলেন, ‘গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে বিছালি কিনে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কাউনের খরচ পড়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিছালির দাম কমে গেছে। হয়তো বা আগামী ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কৃষকেরা ধান কাটবে। নতুন বিছালি হলে পুরাতন বিছালির চাহিদা থাকবেনা। তাই এখন বিছালির দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে। লোকসান হলেও বাধ্য হয়ে বিছালি বিক্রয় করে দিচ্ছি। প্রতি কাউন বিছালি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। যে দামে বিছালি কিনে মজুত করেছিলাম, বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই টাকাও উঠবে না। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।,
গরুর খামারে খাদ্য হিসেবে বিছালি খড়ের চাহিদা কমে যাওয়া এবং এবং বিকল্প হিসেবে কাঁচা ঘাসের ব্যবহার বাড়ার কারণে বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিছালি খড়ের ব্যবসা সারা বছর চললেও বাজারদরের ওঠানামার কারণে লাভের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে যে হারে দাম কমছে, তাতে সামনে আরও দাম কমলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর