কুমিল্লায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বৃষ্টি (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সুমনসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। রবিবার সকালে জেলার চান্দিনা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার সিরাজ মাস্টার বাড়ির সুমনের ঘর থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত বৃষ্টি পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার টামটা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুমন একই এলাকার মনা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন তাঁর স্ত্রীকে প্রায়শই অমানুষিক মারধর করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা সজিব, সাইফুল ইসলাম ও গিয়াসউদ্দিন জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই বৃষ্টির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সুমন। ঘটনার আগে টানা সাত দিন ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার দুপুরে সুমন তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতে করতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পুকুরপাড় দিয়ে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যান। গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে রিকশায় করে মৃত অবস্থায় বৃষ্টিকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে ঘরে রেখে সুমন পালিয়ে যান।
প্রতিবেশী সালেকা ও জয়নব বিবি জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে সুমন যখন বৃষ্টিকে রিকশায় করে বাড়িতে নিয়ে আসেন, তখন তাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এ সময় বৃষ্টির শরীরে কোনো নড়াচড়া না থাকায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকায় তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সুমন দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর