মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী কোনো কাজ কেউ করলে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে তিনি তা প্রমাণ করেছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অস্ত্র প্রদর্শন ও একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে তাঁকে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমালোচনার জবাবে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তিনি আত্মরক্ষার জন্য নিজের বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয় এবং মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও সন্দেহভাজন ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ সময় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর