আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে ইতিহাস গড়েছে ভারত। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করেছে তারা। তবে মোট জয়ের সংখ্যার বাইরে জয়-হারের অনুপাতে ভারতের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। এই পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনায় এনেছে সহযোগী দেশটির টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সকে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০টি জয় পেয়েছে মাত্র নয়টি দল। তাদের মধ্যে উগান্ডার জয়-হারের অনুপাত উল্লেখযোগ্য। ১৩১ ম্যাচে ১০১টি জয় ও ২৭টি পরাজয়ের সুবাদে দলটির অনুপাত ৩.৭৪। অন্যদিকে, ৩০০ ম্যাচে ২০০ জয় পাওয়া ভারতের জয়-হারের অনুপাত ২.৪০৯। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে উগান্ডা।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান অবশ্য তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। ২২২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ৮৯টি জয় ও ১২৮টি পরাজয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। দলটির জয়-হারের অনুপাত ০.৬৯৫। অন্য পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অনুপাত ১.৪৮৭, আফগানিস্তানের ১.৪৫৫, ইংল্যান্ডের ১.৪১৩, অস্ট্রেলিয়ার ১.৩৬১, দক্ষিণ আফ্রিকার ১.২৯৭ এবং নিউজিল্যান্ডের ১.১৫০। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ০.৮৪৩, আয়ারল্যান্ডের ০.৮১৯, শ্রীলঙ্কার ০.৭৯৮ ও জিম্বাবুয়ের ০.৫৭৪।
তবে শুধু জয়-হারের অনুপাত দিয়ে উগান্ডার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ তুলনামূলক কম পায় তারা। দলটির অধিকাংশ ম্যাচই হয় তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে উগান্ডা।
মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে মোজাম্বিককে মাত্র ১৯ রানে অলআউট করে উগান্ডা। এরপর কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র পাঁচ বলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জয়ের তালিকায় এই কীর্তি যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্পেন। ২০২৩ সালে আইল অব ম্যানের বিপক্ষে ১১৮ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছিল দলটি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের মতো পরাশক্তি যেখানে মোট জয়ের নতুন মাইলফলক গড়ছে, সেখানে জয়-হারের অনুপাতে উগান্ডার এগিয়ে থাকা ক্রিকেটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান। তবে এই সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়নে প্রতিপক্ষের শক্তি, ম্যাচের সংখ্যা এবং শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে পারফরম্যান্সও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর