আজ ২৯ অক্টোবর, বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। কারণ, চিকিৎসা পেতে দেরি হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে সৃষ্ট একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত অবস্থা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণ চিনবেন যেভাব
স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া। এ ছাড়া হঠাৎ দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা, ভারসাম্য হারানো এবং অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথাও দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা করা বা নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়। রোগীকে কখন লক্ষণ শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখা চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্ট্রোকের লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের মূল বার্তা—লক্ষণ চিনুন, সময় নষ্ট করবেন না এবং দ্রুত চিকিৎসা নিন। ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিবারের সদস্যদের সতর্কতা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
অন্যান্য... এর সর্বশেষ খবর