বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে তাঁর জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আদালতে দীপের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে এসব তথ্য জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামি দীপের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া জামিনে মুক্তি পেলে আসামি পালিয়ে যেতে পারেন এবং এতে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের পক্ষে শুনানি করেন।
আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিকটিমের সঙ্গে আসামির ছয় বছরের সম্পর্ক, পারিবারিকভাবেও এ সম্পর্ক ছিল। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একবারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। আমরাও চাই সত্য উদ্ঘাটন হোক। আসামি প্রথম থেকেই সহযোগিতা করে আসছেন। এটা হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিয়ে সন্দেহ হয়। ভিকটিমের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তাঁর পরিবারও মামলা করতে চায়নি। আমরাও সত্য উদ্ঘাটনের পক্ষে। এ কারণে জামিন আবেদন করিনি।’
এদিকে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি (রাওয়া)।
শনিবার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে তাহসিফের বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাওয়ার নেতারা।
তাহসিফের মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বলে মন্তব্য করেন রাওয়ার যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসল সত্য উদ্ঘাটন করবেন এবং তদানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তাহসিফের মরদেহ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নেওয়া হয়। বিকেল ৪টায় রুয়াপ কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা অংশ নেন। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌপুলিশ। মরদেহের কাছে পাওয়া আইফোন ও হাতঘড়ি দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর