পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ইটভাটা চালু থাকলেও পার্বত্য জেলা বান্দরবানে আপাতত ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভাটাগুলো বন্ধ থাকায় উন্নয়নমুখী এই জেলার অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ইট সংকট, যার প্রভাবে থমকে গেছে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
স্থানীয় শ্রমিক ও ইটভাটা মালিক সমিতির তথ্যমতে, মৌসুমভিত্তিক এই কাজের ওপর হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘ স্থবিরতায় তাঁদের জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বেকারত্বের কবলে ৫০ হাজার শ্রমিক
বান্দরবান জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক মোক্তার আহমদ জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু লামা উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ৪০টি। এসব ভাটায় পাহাড়ি ও বাঙালি মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করেন। এর বাইরে পরিবহন, মালামাল সরবরাহ ও আনুষাঙ্গিক কাজের সঙ্গে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পরোক্ষভাবে জড়িত। ভাটাগুলো বন্ধ থাকায় এসব মানুষের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।
ভাটার শ্রমিক হাবিবুল্লাহ, আলাউদ্দীন, নূরুল আলম ও সাইফুল জানান, প্রতিবারের মতো এবারও মৌসুমের কাজের আশায় তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে দাদন বা ঋণ নিয়ে পারিবারিক খরচ মিটিয়েছেন। কেউ কেউ মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়েও তা সংসারে ব্যয় করেছেন। কিন্তু এখনো ভাটাগুলো চালু না হওয়ায় এই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো তাঁদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা ইটভাটা চালুর সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আকাশচুম্বী ইটের দাম ও স্থবির উন্নয়নকাজ
ইটভাটা বন্ধ থাকায় বান্দরবানে দেখা দিয়েছে তীব্র ইট সংকট। স্থানীয়ভাবে ইট তৈরি না হওয়ায় জেলার বাইরে সমতল এলাকা থেকে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দিয়ে ইট আনতে হচ্ছে। এতে নির্মাণসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে সড়ক, ভবন ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় থমকে গেছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
মালিকপক্ষের উদ্বেগ ও দাবি
ইটভাটা মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল কুদ্দুস বলেন, বান্দরবানের উৎপাদিত ইট দিয়েই স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের নির্মাণকাজ মেটানো হতো। কিন্তু গত তিন বছর ধরে ভাটাগুলো বন্ধ থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। সমতল জেলা থেকে অতিরিক্ত পরিবহন খরচে ইট এনে কাজ করা অসম্ভব। তাই স্থানীয় অর্থনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
শ্রমিক কাদের, নুরুল ইসলাম, মো. ইসমাইল, আমির আলী ও জাফর আলম বলেন, পার্শ্ববর্তী সমতলের উপজেলাগুলোতে ইট তৈরির কাজ চললেও বান্দরবানে তা বন্ধ রয়েছে। এতে এই পেশায় অভ্যস্ত দিনমজুররা চরম সংকটে পড়েছেন। হয় বিকল্প কর্মসংস্থান বা রেশন প্রদান, নতুবা ইটভাটা চালুর দাবি জানিয়ে তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পাহাড়ের পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়ম মেনে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে জেলার অর্থনীতি আরও গভীর সংকটের মুখে পড়বে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর