• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ মিনিট পূর্বে
রফিকুল ইসলাম
বান্দরবন প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৫ দুপুর

আলীকদমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইনর মেরামতে সীমাহীন দুর্নীতি, লাখ টাকা লোপাট

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইনর (ক্ষুদ্র) মেরামত এর কাজে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির করা হয়েছে। কাগজে কলমে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে এবং আইএসও কম্পোনেন্ট-১ এর অধিনে প্রি-প্রাইমারি এন্ড প্রাইমারি এডুকেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় স্কুল/শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে ক্ষুদ্র (মাইসর) মেরামতের লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইএসও কম্পোনেন্ট-১ এর অধিনে স্কুল/শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় আলীকদম উপজেলায় ২০টি বিদ্যালয় সম্প্রতি সময়ে ৭ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। উক্ত প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাইনর (ক্ষুদ্র) মেরামতের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের এসব কাজ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) বা এডহক কমিটির মাধ্যমে করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে সদ্য করা স্কুল/শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারে কাগজে কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাইনর মেরামতের দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয় গুলো হল, আলীকদম বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৬৯৩৭১), ছাবের মিয়া পাড়া আব্দুল হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৪২০৬২), সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৬৯৩৫৬), মেনক্য মেনকক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৬৯৫৩৩), দয়াল চন্দ্র পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৬৯৩৫৯), মেজর জামানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৪২০৫৭) ও চৈক্ষ্যং মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কোড: ১৬৯৩৭০)।

সরজমিনে সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোকাম্মেল আমিন কুতুবী মাইনর মেরামতের কাজের বিল ভাউচার দেখান। মাইনর মেরামতের ৯টি ভাউচারের মধ্যে ১নং ভাউচারে ১টি সাবমারসিবল পাম্প ও ২টি বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান ক্রয়ে ২৫ হাজার টাকা খরচ করা হয়। প্রদর্শিত বিলটি লামা বাজারের আবরার টেলিকমের। আবরার টেলিকমের মালিক রিদুয়ানুল হক বলেন, আমি মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করি। পানির মোটর বা ফ্যান বিক্রি করিনা। মোকাম্মেল মাস্টার আমার কাছ থেকে খালি ভাউচার নিয়ে গিয়েছিলেন। একইভাবে বাকী ভাউচার গুলো সরজমিনে সত্যতা মিলেনি। দুঃখের বিষয় হল স্কুলের সহকারী শিক্ষক নুর মোহাম্মদ ও মোঃ ইউনুচ বলেন, মাইনর মেরামতের কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আমরা কিছু জানিনা, প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন। তবে রাজস্ব খাত থেকে ঠিকাদার ৭ লাখ টাকার কাজ করেছিল, সেটা জানি। সে কাজেও অনিয়ম হওয়ায় তদন্ত চলছে। নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, রাজস্ব খাত থেকে ঠিকাদার যে ৭ লাখ টাকার কাজ করেছিল, সে কাজ গুলো মাইনর মেরামতে দেখিয়ে দেড় টাকা আত্মাসৎ করছে প্রধান শিক্ষক। এই কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কামাল হোসেন জড়িত। এদিকে কোন ভাউচার বা রেজুলেশনে প্রধান শিক্ষক ছাড়া কারো স্বাক্ষর দেখা যায়নি। করা হয়নি প্লান।

একইভাবে আলীকদম বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গেলে কথা হয় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোছনগীর এর সাথে। তিনি মাইনর মেরামত থেকে যে কাজ করেছে বলে দেখিয়েন উক্ত কাজ গুলোও স্কুল/শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের ৭ লাখ টাকা থেকে করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার। মাইনর মেরামতে দেখানো কাজ গুলো আইএসও কম্পোনেন্ট-১ এর বিল ভাউচারে প্রদর্শন করা হয়েছে। মূলত একই সময়ে দুই প্রকল্পের কাজের বরাদ্দ আসায় এক প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে অন্য প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার মিশনে নেমেছে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসার। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোছনগীর প্রদর্শিত মাইনর মেরামতের বিল ভাউচারের ২নং বিলে আলীকদম বাস স্টেশন সংলগ্ন আল আমিন ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কশপ ৩২ হাজার ৫শত টাকার রড ক্রয় ও ৪নং বিলে ২৩ হাজার টাকা গ্রিল মিস্ত্রির মজুরি দেখানো হয়। আল আমিন ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কশপের মালিক সাব্বির জানান, আমার দোকান থেকে কোন লোহার বার বা গ্রিলের কাজ করা হয়নি। ৩নং বিলে ৫০ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয়ের ২৭ হাজার ৫শত টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। বিল নিয়ে বাস টার্মিনালে মের্সাস আকবর ট্রেডার্সে গেলে তিনি জানান আমার দোকান থেকে কোন সিমেন্ট নেয়নি। বিলের লেখা আমার নয়। খালি বিল নিয়ে ঊনারা লিখেছি। উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষকরাও মাইনর মেরামতের কাজ হয়েছে বলে জানেননা। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরো জানান, মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ভ্যাট আয়কর কাটা হয়েছে। এছাড়া ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, ব্যাংকে ক্যাশিয়ারকে ৫ হাজার, প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিসে খরচ দিতে হয়েছে।

ছাবের মিয়া পাড়া আব্দুল হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এখনো কাজ করেননি। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ করা হবে। ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ হয়নি কেন ? এমন প্রশ্ন করতে তিনি এড়িয়ে যান। এরকম অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রায় সব স্কুলে।

এসব বিষয়ে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামাল হোসেন প্রতিবেদককে জানান, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত সকল টাকাই বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। মাইনর মেরামতে কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।’

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম বলেন, ‘স্কুল/শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের অধিনে ২০টি স্কুলে ৭ লাখ টাকা করে দেয়া বরাদ্দের অনিয়ম হয়েছে বলে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তদন্ত চলছে। মাইনর মেরামতেরও অনিময়ের তথ্য পেয়েছি, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]