জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব হলে ৫ আগস্টও বিপ্লব। বর্তমান সরকার নিজেদের পক্ষে থাকা ঘটনাকে বিপ্লব বলছে, আর নিজেদের নেতৃত্ব না থাকা ঘটনাকে আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৭ নভেম্বরকে আমরা বিপ্লব মনে করি, জুলাই বিপ্লবকেও আমরা বিপ্লব মনে করি। তাহলে ৭ নভেম্বর বিপ্লব হলে ৫ আগস্ট বিপ্লব নয় কেন?’
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে হলে বাংলাদেশের গত ১০০ বছরের ইতিহাস দেখতে হবে। যুগে যুগে এ দেশের মানুষ শোষণ ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজেদের মানবিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
১৯৭৫ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন এবং মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সিপাহি, জনতা, শ্রমিক ও ছাত্রদের অংশগ্রহণে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গণবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, চাকরি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি দূর, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করাই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও উপহার তুলে দিয়েই ছাত্রসংগঠনগুলোর দায়িত্ব শেষ হয় না। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রকৃত দায়িত্ব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আবার দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।
আগামী ডিসেম্বরকে প্রতিরোধের মাস উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়, শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত ২ বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যারও বিচার পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার না পেলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর তাঁদের প্রতিরোধের মাস ও বিজয়ের মাস। একাত্তর ও চব্বিশে বিজয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর