নিজের ভিটেমাটিতেই বসবাস, অথচ মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই! জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘর ভাঙচুরের পর ছয় দিন ধরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে একটি পরিবারের। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি নষ্ট করা হয়েছে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তায় এখন নিজেদের বাড়িতেই যেন পরবাসী পরিবারটি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার নুনাছড়া এলাকার চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন খোরশিদা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় রেজাউল করিম মানিক, নুর করিম ও সুজনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
খোরশিদা আক্তারের অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তাঁদের পৈতৃক ভিটাবাড়ির জমি নিয়ে প্রতিবেশী রেজাউল করিম মানিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে তাঁর ভাই মো. ইউসুফ দুই থেকে তিন মাস আগে আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
লিখিত অভিযোগে খোরশিদা উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর সকালে পরিবারের সদস্যরা পুরোনো বসতঘর ভেঙে নতুন করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা ১৫ থেকে ২০ জন মুখোশধারী লোক নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে তাঁর মা হাসিনা আক্তার ও ভাবি রুনা আক্তার আহত হন। পরে তাঁদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খোরশিদার দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এসময় পুলিশের এসআই নুরুল্লাহ প্রথমে ভাঙচুরে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গেলেও কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা আবার ফিরে এসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁদের দুটি গরু নিয়ে গেছেন, যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ও দুটি স্মার্টফোন ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর ও ভাবির জমানো ৭০ হাজার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া তাঁকে ও তাঁর ভাবিকে শ্লীলতাহানি এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করার অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তাঁদের বাড়িতে থাকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন খোরশিদা।
খোরশিদার ভাই মো. ইউসুফ বলেন, ‘এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। রেজাউল করিম পোড়া সনের একটি জাল দলিল তৈরি করে কয়েক বছর আগে জায়গাটি জবরদখল করেন। একপর্যায়ে মামলা-মোকদ্দমা না করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জায়গাটি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। সেই অনুযায়ী আমরা অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করি। কিন্তু পরে তিনি জায়গা বুঝিয়ে দিতে অস্বীকার করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম মানিক বলেন, ‘জায়গাটি আমি দীর্ঘদিন আগে কিনেছি। চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে তাঁরা সেখানে একটি ঘর তুলে ফেলেন।’ ঘর ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সেখানে যা করা হয়েছে, তা আমাদের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়েছে।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে বিচ্ছিন্ন করে দুই দিকে পাঠিয়ে দেয়। উভয় পক্ষকে জমির মালিকানা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর