শেরপুরে সমতল ভূমিতে ‘চা’ চাষে সফলতা!

প্রকাশিত: ৩১ আগষ্ট ২০১৬, ০১:৫৪ এএম

শেরপুরের নকলা উপজেলার টালকী ইউনিয়নের রামেরকান্দি গ্রামের রোকন উদ্দিন সাগরের সমতল ভুমিতে শখের চা বাগান থেকে চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি চা পাতা ২৩০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। তাকে অনুকরন করে অনেকেই এখন কাঠ ও ফলজ বাগানে চা চাষ করার অগ্রহ প্রকাশ করছেন।

চা চাষী সাগরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লালমনির হাটে ভ্রমন কালে কয়েক টি চা গাছ এনে বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করেন। চা গাছের বেড়ে উঠা দেখেই বানিজ্যিকভাবে চা চাষের নেশা চেপেবসে তাকে। ২০১২ সালে ইচ্ছা পূরনের লক্ষে পঞ্চগড় থেকে ৭ হাজার চা চারা কিনে এবং চাষের প্রাথমিক ধারনা নিয়ে এসে আড়াই একর জমিতে রোপন করে তিন শ্রমিক নিয়ে সেবা করা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৭ জন শ্রমিক রয়েছে। তিনি চা চাষের পাশাপাশি মাছ চাষও শুরু করেছেন।

রোপনের দুই বছর পর তিনি কিছু কচি চা পাতা নিয়ে ঘরোয়া ভাবে চা তৈরি করে পরিবারের সবাই পান করেন। সবার কাছে চা ভালমানের চা মনে হওয়ায় বাগানের তদারকী বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে তিনি বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত রং ও ঔষধ ছাড়াই চা উৎপাদন করে সাগর চা নামে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন।

সাগর চা এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলা থেকে জেলা শহরে। সাগর বলেন, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জেলার অনেকেই চা চাষ করবেন। ফলে কোন এক সময় শেরপুর জেলাতে চা শীল্প গড়ে উঠতে পাড়ে। তাতে পতিত জমি কৃষির আওতায় আসাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশ হবে অর্থনৈতিভাবে লাভবান।

শেরপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায়, ২০০২ সলে জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদ দেশে চা চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দল ২২-২৪ এপ্রিল ২০০২ তরিখে ঐ এলাকা পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদন অনুুযায়ী জেলার ৭ হাজার হেক্টর পাহাড়ী জমিতে চা চাষ করা সম্ভব। এর লক্ষে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহনের প্রস্তাব করেন তারা। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তা ফাইলবন্দি রয়েছে।

যেসব জমি চা চাষের উপযোগী সেসব জমিতে অন্য কোন লাভজনক কিছু চাষ করা সম্ভব নয়। তাই এই প্রকল্পটি চালু করতে পারলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধান হতো বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে নকলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, সমতল ভূমিতে চা চাষ একবিরল উদ্যোগ। সাগরের মতো সারাদেশের সকল পতিত জমিতে বিশেষ করে ফলজ ও কাষ্টল বাগানে চা বাগান গড়ে তুলতে পারলে কৃষি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ সরকারের সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধরী এই বিষয়ে উদ্যোগ নিলে শেরপুরে গড়ে উঠতে পারে চা শিল্প, দুর হতে পারে বেকারত্ব সৃষ্টি হতে পারে সাগরের মতো হাজারো কর্মসংস্থানের এমনটাই অভিমত দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মহল।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে চা আবাদের গোড়াপত্তন হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম পাহাড়ী টিলার চা বাগান যা ১৮৫৭ সালে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদনে আসে। কৃষি সম্ভাবনাময় এদেশে সমতল ভূমিতেও চা চাষ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম অর্জন করেছে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: