প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

শহীদদের প্রতি আগের সেই সম্মান আর নেই

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০২:২০:৪২

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দ্বিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আজকাল অনেকই জুতা পায়ে উঠে পড়েন। দৃশ্যটা খুবই বেদনাদায়ক। অথচ একটা সময় এই ঢাকা শহরের মানুষই বাসা থেকে বের হতেন খালি পায়ে। বছরে একটা দিন যদি এইটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে না পারেন তাহলে শহীদদের প্রতি কিসের ভালোবাসা দেখাবেন?

দু:খের বিষয় বাসা থেকে তো নয়ই শহীদ মিনার এলাকায় এসেও কেউ জুতো খুলছেন না! অথচ একবার ভেবে দেখুন ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির সেই দিনটিতে যদি সালাম, রফিক, জাব্বার, বরকত, আসাদ শফিকরা নিজের বুকের তাজা রক্ত না দিনে আজ কি আমরা মায়ের মুখের ভাষায় কথা বলতে পারতাম? কথা বলতে হতো উর্দুতেই। সবচেয়ে বড় বিষয় আজ আবধি আমাদের পরাধীন হয়েই থাকতে হতো। কারণ একুশের চেতনাকে সাথে করেই আমরা একাত্তরে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছি।

দু:খের বিষয় আজকাল নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না একুশে ফেব্রুয়ারির অর্থ কি! আনেকে আবার জানেন না দিনটি কেন পালন করা হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি সারা দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকায় দেখছিলাম এসব কিছুই। ফুল দিতে এসেছেন অনেকেই। কিন্তু চেতনার প্রদ্বীপ শিখা জ্বালতে পারেন নি অনেকেই । উপস্থিত জন মানুষের অন্তত ৭৫ ভাগই এসেছেন তার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে। যাদের অন্তত ৫০ ভাগই প্রেমিক যুগল। এ যেন এক উৎসবের দিন! খুব কষ্ট লাগল তাদের মূর্খতা আর বিবেকহীন আচরন দেখে। আরে বাবা আজ তো উৎসবের দিন নয়। আমাদের জাতীয় দ্বিবস গুলোর মধ্যে দুইটি দিনকেই আমরা উৎসবের দিবস হিসেবে পালন করি। যার একটি ১৬ ডিসেম্বর অপরটি পহেলা বৈশাখ। প্রথমটিতে বিজয়ের আনন্দ মিশে আছে আর পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির উৎসব। তাই বলে আমরা শহীদ দ্বিবসে কি করে উৎসবের মেজাজে থাকি?

ভাষা শহীদদের প্রতি এই যদি হয় সম্মান প্রদর্শনের নমুনা তাহলে বোঝতে দেরি হবার কথা নয় আমাদের দেশপ্রেমের লেভেলটা আজ অনেক নিচুতে গিয়ে ঠেকেছে। লোক দেখানো কোন কাজই মানুষকে তৃপ্তি দিতে পারে না। আজকাল অনেকই বিশেষ দিন মানেই বিশেষ আর প্রিয় মানুষকে নিয়ে উৎসব আর ফুর্তি করার উপলক্ষ হিসেবে বেছে নেয়! তার আগে তো বুঝতে হবে কোনটা শোকের দিন আর কোনটা উৎসবের দিন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দ্বিবস উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় কথা হয় বেশ কিছু তরুন তরুনীর সাথে। তাদের কাছে ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বিস্ময়করভাবে ৮০ ভাগই সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুন্দর ভাবে বলতে পেরেছেন। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উত্তর ছিলো রীতিমত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত। তাদেরই একজন একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে এসেছি!

যাদের সবাই স্কুল, কলেজ পেরিয়ে এখন লেখা পড়া করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অথচ জাতীয় দ্বিবসগুলোর অর্থই ঠিকমত বলতে পারেন না। ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি জাতির কাছে এরকম কিছুর দেখা পাওয়া নিতান্তই দু:খ জনক। আশা করছি আমাদরে মমতাময়ী স্কুল শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের আরও ভালো করে জাতীয় দ্বিবসগুলো সম্পর্কে ভালো পাঠ দিবেন।

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: