কাপ্তাই ‘জলবিদ্যুৎ’ কেন্দ্রে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৭ পিএম
বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। হ্রদে অতিরিক্ত পানি কমায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনে মারাত্মক ধস নেমেছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদে পানির রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে পানি থাকার কথা ১০২.৬৮ ফুট মীন সী লেভেলের (এমএসএল) উপরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ৯৪.৮১ ফুট এমএসএলেরও কম। এই অবস্থায়ও প্রতিনিয়ত বিদ্যুত উৎপন্ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাচ্ছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানান, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট পাঁচটি জেনারেটর রয়েছে। এই পাঁচটি জেনারেটর থেকে প্রতিদিন ২৪০ মোগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের পানির স্বল্পতার কারণে ৪টি জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে রেসনিং পদ্ধতিতে ১টি জেনারেটর চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১টি জেনারেটর থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই মৌসুমে পাহাড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি না হওয়ায় জলাধারে পানি জমছে না বরং জলাধারে যে পানি জমা আছে তা খরচ করে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে ১৯৬০ সালে খরস্রোতা কর্ণফুলি নদীর উপর দিয়ে নির্মিত হয় কাপ্তাই বাঁধ। সৃষ্টির পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন, নৌ যোগাযোগ, জলে ভাসা জমিতে কৃষি চাষাবাদ, সেচ, ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, পর্যটনসহ বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনা গড়ে ওঠে কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে। কিন্তু সৃষ্টির পর থেকে কাপ্তাই হ্রদের কোনো সংস্কার, ড্রেজিং বা খনন করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে নামা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে এবং নিক্ষেপ করা হাজার হাজার টন বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাচ্ছে হ্রদের তলদেশ। এতে নাব্যতার সংকটে অস্তিত্বের সম্মুখীন এই হ্রদ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হ্রদ ঘিরে তৈরি হয় নানা সংকট।  

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: