প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

শাহাদাত হোসেন রাকিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

থাকছে না কোনো বিভাগ

পালটে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার ধরণ

   
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, ১ ডিসেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

২০২২ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকেও থাকছে না মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নতুন এ কারিকুলাম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকেও থাকছে না কোনো বিভাগ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখায় এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নতুন রূপরেখা অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে পাঁচটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। রূপরেখায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আবশ্যিক বিষয়ের জন্য বরাদ্দ থাকবে মোট শিখন সময়ের ২৫ শতাংশ। আর নৈর্বাচনিক তিনটি বিষয়ের জন্য মোট শিখন সময়ের ৭৫ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকবে। পাশাপাশি একটি ঐচ্ছিক প্রায়োগিক বিষয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলাদা সময় বরাদ্দ করবে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর মো. মশিউজ্জামান বলেন, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণিতে আগের মতো গ্রুপ চিহ্নিত করা হবে না। অর্থাৎ বিভাগের বিভাজন থাকবে না। তবে শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো পড়তে পারবে। শিক্ষার্থীরা আবশ্যিক তিনটি বিষয় নিয়ে পরবর্তী সময়ে নৈর্বাচনিক ও ঐচ্ছিক বিষয় নির্বাচন করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, ২০২১ সাল থেকে পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে কাজ চলছে। এদিকে নতুন বছর থেকে বাজারে পাঠ্যসহায়ক সব বইয়ের দাম কমাচ্ছে পাঠ্যপুস্তক সমিতি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে পাঠ্যবই পরিবর্তন হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরে। বিভাগ বিভাজন তুলে দেওয়ায় নবম ও দশম শ্রেণিতে সবাইকে একই পাঠ্যবই পড়তে হবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। ২০২২ সাল থেকে ‘শিশু শ্রেণি’ নামে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাকে দুই বছর মেয়াদে উন্নীত করায় এ স্তরের পাঠ্যবইয়েও আসবে পরিবর্তন।

চলমান পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩টি করে পাঠ্যবই এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি করে পাঠ্যবই পড়তে হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩টি পাঠ্যবই পড়তে হয়। নবম ও দশম শ্রেণিতে ২৭টি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩৯টি পাঠ্যবই পড়তে হয়। তবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ আলাদা থাকায় নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের বই পড়তে হয় না।

মাদ্রাসায় ধর্মীয় ৪টি বিষয় কোরআন, আকাইদ ও ফিকাহ, হাদিস এবং আরবির পাঠক্রমেও পরিবর্তন আসছে। আবার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ‘নৈতিক শিক্ষা ও ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা ও চারুকলা’ এরকম একই বিষয়গুলোকে একত্রিত করে বই কমিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা মান কমিয়ে ৫০ নম্বরে আনা হবে। বাকি ৫০ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য।

এদিকে, শিশুদের পড়াশোনার চাপ কমাতে প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ে বিষয়বস্তু কমিয়ে আনা হচ্ছে। ২০২১ সালে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিশুরা নতুন কারিকুলামে তাদের পাঠ্যবই হাতে পাবে। ২০২২ সালে প্রাথমিকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি; মাধ্যমিকের সপ্তম, নবম এবং উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা। আবার ২০২৩ সালে পঞ্চম, অষ্টম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা। আগামী বছর পর্যন্ত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের পাঠ্যই পড়বে শিক্ষার্থীরা।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: