প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

উদ্বেগ উৎকন্ঠায় সিটি নির্বাচন, এক দিনেই সিএমপির ৫ থানার ওসির রদবদল

   
প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, ২০ জানুয়ারি ২০২১

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে আর সাধারণ ভোটারদের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। পুরনো দৃশ্যের ইঙ্গিত ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিহত হয়েছেন ৩ জন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। উৎসবমুখর নির্বাচন হয়ে উঠছে সংঘাতময়। দলীয় প্রার্থী আর বিদ্রোহীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও অহরহ।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশন ঢাকার একটি চিঠির আলোকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)’র পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসির রদবদল হয়েছে।

জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার মগপুকুর পাড় এলাকায় পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর এবং বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। নিহত আজগর আলী বাবুল বাহাদুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ ঘটনার পর নজরুল ইসলাম বাহাদুর ওসি সদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশন এবং সিএমপি কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।

এদিকে সিএমপির রদবদলের আদেশে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীনকে কোতোয়ালী থানার ওসি, কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, ডবলমুরিং থানার ওসি, চকবাজার থানার ওসি মুহাম্মদ রুহল আমীনকে বাকলিয়া থানার ওসি, চাঁন্দগাও থানার ওসি আতাউর রহমান খোন্দকারকে চকবাজার থানার ওসি, ডিবি-উত্তরের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে চাঁন্দগাও থানার ওসি পদে বদলি করা হয়েছে ও ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশকে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১৪টি ওয়ার্ড সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা বুঝতে পারছেন না তারা ভোট দিতে যাবেন কিনা। গেলেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা। অন্যদিকে, গতকাল চকবাজার রাহাত্তারপুল এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের গণসংযোগে নগর ছাত্রদলের দুই গ্রুপে হাতাহাতি হয়েছে। এতে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন হেনস্থার শিকার হন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে বেশ ক’জন অভিযুক্তের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী প্রার্থী হওয়ায় সংঘাতময় নির্বাচনে এ শঙ্কা আরও বাড়ছে। মূলত কাউন্সিলর পদ নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আন্তকোন্দল আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দলটির নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন করছে। সম্প্রতি পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনেও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে কোন্দল এবং দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সবকিছু ভোটারদের মনে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: