কলাবাগানে ও-লেভেল ছাত্রী হত্যা

দিহানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১১ ফেব্রুয়ারি

   
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান আদালতে সময়ের আবেদন জানান।

ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা নতুন দিন ধার্য করেন। ঢাকার মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানের বাসা থেকে ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান দিহান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন ছিল।’ বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পর তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

গত ৭ জানুয়ারি সকালে বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন। এরপর আনুশকাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির নিজের বাসায় নিয়ে যান দিহান। ফাঁকা বাসায় শারীরিক সম্পর্কেরে একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। এ ঘটনার মামলায় দিহান গ্রেফতার রয়েছেন। তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এ ঘটনায় আনুশকার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জানুয়ারি সকালে আমার স্ত্রী ও আমি বের হয় হই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিংয়ের পেপার্স আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল।সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: