প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

   
প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার নাম ইকবাল হোসেন। হামলার ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত তিনটায় রাজধানীর দিয়াবাড়ি থেকে এই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এলিট ফোর্সটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এবিষয়ে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে বিস্তারিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন ইকবাল হোসেন। বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানান, হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের নির্দেশে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভামঞ্চে গ্রেনেড হামলা করেছিলেন।

গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে আত্মগোপনে থাকার পর এই জঙ্গি সেলিম পরিচয়ে মালয়েশিয়া পালিয়ে যান। কিন্তু অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতায় পলাতক আসামি ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দেশে বীভৎস রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে মুহূর্মুহ গ্রেনেড হামলায় হয়।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই হামলায় সেদিন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন তাদের প্রধান টার্গেটে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয় রাউন্ড গুলি। শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সেদিনের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পেছনে ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। হত্যা মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসির দণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই ৩৮ জনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অন্য ধারায় ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুই মামলায় আলাদাভাবে সাজা দেয়া হলেও তা একযোগে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

কাওসার/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: