প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মাদার তেরেসা হতে চেয়েছিলেন ‘সিস্টার’ হেলেনা

   
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, ৩০ জুলাই ২০২১

ছবি : ইন্টারনেট

অদৃশ্য হাত ও অপকৌশলের মাধ্যমে ‘মাদার তেরেসা’,‘পল্লী মাতা’ও ‘প্রবাসী মাতা’হিসেবে পরিচিতি পেতে চেয়েছিলেন উচ্চাভিলাষী হেলেনা জাহাঙ্গীর। এছাড়াও অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সেফুদার সঙ্গে যোগাযোগ ও লেনদেন ছিল তার। শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, অপকৌশলের মাধ্যমে নিজেকে ‘মাদার তেরেসা’, ‘পল্লী মাতা’ ও ‘প্রবাসী মাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেতে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন হেলেনা। তার পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘবদ্ধ চক্রটি এসব ভূয়া খেতাবের অপপ্রচার চালাত। বিভিন্ন দেশি সংস্থা ও ব্যক্তি থেকে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ সংগ্রহ করতেন। যা মানবিক সহায়তায় ব্যবহারের চেয়ে গ্রেফতারকৃতের খেতাব প্রচার প্রচারণায় বেশি ব্যবহার করা হতো।

তিনি বলেন, সেফুদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর নজর কাড়তে চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত হেলেনার নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে সদ্য পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, তিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, ১৯৯৬ সালে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন স্বামীর সুবাদে। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের পরিচালক হয়েছেন। জয়যাত্রা নামে একটি আইপিটিভি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আইপিটিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদ অলংকৃত করেছেন। যদিও দেশে এই সংগঠনের সরকারি অনুমোদন নেই। আছে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে নানা সামাজিক কাজ-কর্ম করেন তিনি। গরীব অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, বিতরণ করেন শীতবস্ত্র।

সূত্রে আরও জানা যায়,গ্রেফতার হেলেনা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখে নিজের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেন। তার প্রায় ১২টি ক্লাবের সদস্যপদ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের বাসভবনে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযান শেষে রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয় এবং পরে র‍্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে এক ক্ষুদে বার্তায় তাকে গ্রেফতারের তথ্য জানায় র‍্যাব। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার কিছু দিনের মাথায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যও মনোনিত হন। কুমিল্লা উত্তরের আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদও পান তিনি।

তুষার/জু.সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: