আদালতে চিৎকার করে যা বললেন হেলেনা

   
প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ৩১ জুলাই ২০২১

বিভিন্ন সময় নানা কারণে আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গুলশানের নিজ বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে দুটি মামলা করে। এর মধ্যে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তিনটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মাদক আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনের ধারা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আসা হয় ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম রাজেশ চৌধুরীর এজলাসে।

আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা হেলেনা জাহাঙ্গীর নানা সময়ে সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী মামলার এজাহারের কথা উল্লেখ করে কোথায় কখন বক্তব্য দিয়েছেন তার দিন তারিখ উল্লেখ নেই বলে দাবি করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুলশান থানায় করা এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তিন দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশ পাঁচ দিনের আবেদন করেছিল।

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘যার সম্মান নষ্ট করা হয়েছে, শুধু তিনিই মামলা করতে পারবেন। অন্য কেউ এই মামলা করতে পারবেন না।’ শফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহার দেখলাম, ২৫, ২৯ ৩২ ধারায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই, কখন কোথায় কীভাবে কার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তার কোনো উল্লেখ নেই। হেলেনা জাহাঙ্গীরের ব্যবসায়িক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তার আইনজীবী বলেন, ‘আসামি একজন সিআইপি, এই মামলায় রিমান্ড কী দরকার? রিমান্ডের কোনো যুক্তি নেই।’

এ সময় বিচারক বলেন, মামলার ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়েছে, এই আসামি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মন্ত্রী, এমপি ও দেশের সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে সরকারের ভাবমূর্তি ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। ফরোয়ার্ডিংয়ে আরও বলা হয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও পরিকল্পনায় যুক্ত। এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা মহল জড়িত আছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই গোষ্ঠী কারা তা জানতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

আদালত এ সময় হেলেনা জাহানঙ্গীরকে আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার আছে কি না, তা জানতে চায়। এ সময় হেলেনা জাহাঙ্গীর চিৎকার করে বলেন, ‘আমি সরকারের লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। আমার পদ এখনও যায়নি। আমাকে কোনো শোকজ করা হয়নি। আমি কোনো নোটিশ পাইনি। আমার জীবনে আমি ফেসবুকে কোনো দিন সরকারের বিপক্ষে লিখি নাই। আমি সরকারের লোক। আওয়ামী লীগের লোক। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করি।’

হেলেনা আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রায় ২৫টা দেশ সফর করেছি। আমি কীভাবে সরকারের বিপক্ষে কথা বলব। কোথাও কোনো প্রমাণ নেই আমার ফেসবুকে। কোনো পেজে। বরং কেউ যদি কথা বলে থাকে সেটার প্রতিবাদে আমি দাঁড়িয়েছি। সেই ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে। সেটার ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে।’

এ সময় প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও (মোবাইলের কলরেকর্ড) আদালতে উপস্থাপন করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু। সেখানে শোনা যায় হেলেনা জাহাঙ্গীর বলছেন, ‘কোনো মন্ত্রীকে গোনার সময় নাই’। এক অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর, যা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছিল। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।

না.হাসান/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: