প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কামরুজ্জামান সেলিম

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

কাজ দেওয়ার কথা বলে নারীকে ৮ জনে পালাক্রমে ধর্ষণ

   
প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

আলমডাঙ্গায় কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে । গত ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা দুপুরের দিকে ওই নারীকে আসমানখালী বাজারের রশীদের দোতলা বিল্ডিংয়ে নিয়ে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে বুধবার (১৫ সেপ্টম্বর) আলমডাঙ্গা থানায় ধর্ষিতা নারী মামলা দায়ের করেছেন। জানা গেছে, উপজেলার রুইতনপুর গ্রামের মৃত তপেল উদ্দিনের মেয়ে নাজমা খাতুনের (৩৪) সাথে চিৎলা গ্রামের তরিকুল ইসলাম ওরফে কুরবান আলীর বিয়ে হয়। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ওই নারী তার সন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়িতে বসবাস করেন।

ওই নারী অভাব অনটনের কারণে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি তার পূর্ব পরিচিত আসমানখালী গ্রামের মিজানুর রহমান কলুর সাথে মোবাইল ফোনে একটি কাজ ঠিক করে দিতে অনুরোধ করেন। মিজানুর রহমান কলু কাজ ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসমানখালী বাজারে আসতে বলে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারী আসমানখালী বাজারে মিজানুর রহমান কলুর সাথে দেখা করেন। এ সময় কলুর সাথে থাকা পার্শ্ববর্তী শালিকা গ্রামের মুলাম হোসেন একটি কাজ ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে। পরে ওই নারীকে বাজারের রশিদের দোতলা বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে নিয়ে যায় তারা।

এরপর শালিকা গ্রামের আবু ছদ্দিনের ছেলে মুলাম হোসেন(৫০), বন্দরভিটা গ্রামের মৃত সেন্টুর ছেলে রিপন ওরফে লিপন(৩৫), শালিকা গ্রামের বারেক আলীর ছেলে হাসান(৪০), জসিম উদ্দিনের ছেলে নাজিরুল(২৫), মহেশপুর গ্রামের মৃত তপেল বিশ্বাসের ছেলে হাবু (৪২) ও নান্দবার গ্রামের মান্নানের ছেলে হামিদুল (৩৪) মিজানুর কলুর সাথে যোগ দেয়। ওই নারী আসবে নিশ্চিত হয়ে কলু আগে থেকেই এদেরকে মোবাইলে ডেকে নেয়। তারা একের পর এক ওই নারীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তারা ধর্ষন শেষে তাকে বিকেলের দিকে ওই কক্ষে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে ওই নারী বিল্ডিং থেকে নেমে বাড়িতে চলে যান।

এরপর বাড়ি যাওয়ার পথে ধর্ষক মিজান ও রিপন ওই নারীকে কিছু টাকা দিয়ে চায়। এসময় ওই নারী টাকা নিতে না চাইলে তাকে দেখে নিতে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। ঘটনা জানা জানি না করতেও হুমকি দেয়া হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ওই নারী আলমডাঙ্গা থানায় এসে ৭ জনকে আসামী ও আরেকজনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন। রাতেই থানার পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন শেখ মাহবুবুর রহমান অভিযান চালিয়ে ১ নং আসামী মুলামকে গ্রেফতার করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হবে। আসামী মুলামকেও সংশ্লিষ্ঠ মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: