প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনিরুল ইসলাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

স্বপ্নের ঘর পেয়ে খুশি হাসিনা

   
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

হাসিনা বেগমের (২৮) স্বামী আলমগীর মিয়া জমি বিক্রি করে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাতারে। স্ত্রী-সন্তানকে ভরণপোষণের পাশাপাশি আবার নতুন বাড়ি কিনবেন এই আশায় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আলমগীর মিয়া। কিন্তু বিধাতার কি খেলা? ২০০৪ সালে কাতারে এক দুর্ঘটনায় সব কিছু যেনো এলোমেলো হয়ে যায় তার। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। সেই থেকে আর বাড়ি কেনা হয়নি হাসিনা আলমগীর দম্পতির। অন্যের বাড়িতেই কোনমতে কাটছিল তাদের জীবন।

অবশেষে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্পে ঠাঁই পেয়েছেন হাসিনা বেগম। তাদের সংসারে দুই ছেলে। বড় ছেলে খাইরুল আলম (১৪) প্রতিবন্ধী। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পেয়ে হাসিনা-আলমগীর দম্পতির আনন্দের যেন শেষ নেই। জীবনের এই কঠিন সময়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘর পেয়ে এখন অনেক খুশি। শুধু ঘরই নয়, থাকছে নিজ নামে দুই শতক জমি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, সুন্দর বারান্দাসহ বসবাসের নিরাপদ সুবিধা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় এখানে ১১ টি পরিবার উঠেছে স্বপ্নের নতুন ঘরে। এ ১১ টি পরিবারের সবার ঘরেই বইছে আনন্দের সু-বাতাস। এরমধ্যে হাসিনা বেগমের ঘরে যেন একটু বাড়তি আনন্দ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরের দুটি কক্ষ হাসিনা বেগম সাজিয়েছেন মনের মাধুরী দিয়ে। এতদিন প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করতে কষ্ট হলেও বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বাস করছেন স্বাচ্ছন্দে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইতিমধ্যে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারদের মধ্যে এসব বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন লেমন এ ১১ টি পরিবার কে তাদের স্বপ্নের ঘর বুঝিয়ে দেন।

বাড়ি পাওয়ার আনন্দে ভূমিহীন হাসিনা বেগমের চোখে ডেকেছে আনন্দ অশ্রুর বান। ঘর পেয়ে কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করায় হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমি দুই ছেলে ও অসহায় স্বামীকে নিয়ে মানুষের জায়গায় কুঁড়েঘর তুলে থাকি। স্বপ্নেও ভাবিনি যে, আমি জমিসহ ইটের একখানা নতুন পাকা ঘর পাবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ইটের একটি ঘর দিয়েছেন। এখন ইটের ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। দোয়া করি আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সব সময় ভালো রাখে।

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন লেমন বলেন, মাননীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয়ের বরাদ্দকৃত কাবিকার প্রকল্প দ্বারা জমি বরাট করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্প -২ এর অধিনে পশ্চিম শিলুয়া মৌজায় ১১ টি পরিবারকে ভূমি ও ঘর নির্মান করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ঘর পেয়ে অসহায় পরিবার গুলো এখন খুশি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার প্রতিটি ঘরে দুইটি বেডরুম, একটি বাথরুম, একটি রান্নাঘর সহ পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা রয়েছে। উপজেলায় আশ্রায়ন প্রকল্প-২ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬৯টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘরে আশ্রয় পাওয়াদের অধিকাংশই মানবেতর জীবন যাপন করতেন। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পেয়েছেন। এর ফলে তাদের জীবনমান এখন উন্নত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই, তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: