প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ জামাল বাদশা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে হাঁস খেলা দেখতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

   
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলা এখন প্রায় বিলুপ্তর পথে। এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আয়োজন করা হয় এক সময়ের জনপ্রিয় হাঁস ও কলাগাছ খেলা। খেলা দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ উপচেপড়া ভিড় জমে। দর্শকদের আনন্দ-উল্লাসে জমে ওঠে খেলাও। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের জোড়া পুকুর বাজার কমিটির আয়োজনে খেলা দুটি অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলার জোড়াপুকুর এলাকার আতোয়ার মিয়ার দিঘীতে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। দিঘীতে ছেড়ে দেওয়া দুটি হাঁস। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে দিঘীতে ঝাঁপ দেন আটজন। দীঘির চারপাশে জড়ো হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ করতালি দিতে থাকনে। হাঁস ধরতে শুরু হয় হইচই। ধারাবাহিকভাবে ১০০ মানুষ এই হাঁস ধরার খেলায় অংশ নেন। এ খেলা শেষে শুরু হয় কলাগাছে ওঠার পর্ব। সেখানেও মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

বাউরা আরেফা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন জানায়, পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছি। করোনাভাইরাসের পর এই প্রথম এই খেলাটি দেখলাম। অনেক ভালো লাগছে। ষাটোর্ধ্ব শাহ আলম মিয়া বলেন, অনেকদিন পর খেলা দেকনো বাহে। এ বয়সে হাঁস খেলা দেখি মনটা ফূর্তি হইলো।

এ হাঁস ও কলাগাছ খেলার উদ্বোধন করেন ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন- জোড়াপুকুর বাজার কমিটির সভাপতি ফজলার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে তারা পুরস্কার বিতরণ করেন।

জোড়াপুকুর বাজার কমিটির সভাপতি ফজলার রহমান বলেন, বাপ দাদার আমলের সেই খেলাগুলো আবার নতুন প্রজন্মদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন। এই খেলাগুলো আর চোখে পড়ে না। তাই এলাকার সবাই মিলে আয়োজন করি।

এ বিষয়ে ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরল ইসলাম বলেন, হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ মুক্ত রাখতে এসব ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খেলার আয়োজন প্রশংসনীয়। প্রতি বছর এই হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো আয়োজন করা উচিত।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: