গাছ থেকে সুপারি পাড়তে বাধ্য করায় বিদ্যূৎস্পৃষ্ঠ হয়ে গুরুত্বর আহত, মামলা দায়ের।

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম

শিশু সন্তানকে প্ররোচিত করে সুপারী গাছে উঠে সুপারী পাড়তে বাধ্য করায় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুত্বর আহত হয়ে শিশুটির ডান হাত কেটে ফেলার ঘটনায় আদালত অভিযুক্ত প্রধান আসামীর বিরুদ্বে আজ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযুক্ত অপর ২ আসামীর নামে সমন জারী করা হয়েছে। বরগুনার চীফ জুডিশিয়াল মেজিষ্টেট আদালতে বরগুনার সদর ইউনিয়নের ঢলুয়া গ্রামের সুমন বয়াতীর স্রী ঝুমুর আক্তার বাদী আজ এই মামলা দায়ের করেন।

ঝুমুর আক্তার আদালত চত্তরে সাংবাদিকদের জানান,আমার স্বামী পেশায় একজন শ্রমিক। আমার ছেলে সাব্বিরকে প্রতিবেশী প্রবাসী মহসিনের স্রী শিরিন আক্তার বাড়ী একা থাকায় রাতে ঘুমানোর জন্য দিতে বলায় আমি ছেলেকে ঘুমাতে যেতে দিতাম। আমার ছেলে কখনো গাছে উঠেনী ২০২১,সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথমে ১ নং আসামী শিরিন আক্তার, পরে ২ নং আসামী আঃরব জোর পূর্বক সুপারী গাছে উঠতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে সুপারী গাছের পাশে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে আমার ছেলে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারায়। ৩জন আসামী আমাদের নিকট ঘটনাটি না জানিয়ে বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে সেখান থেকে বরিশাল নিয়ে যাবার সময় আমরা জানতে পারি।

ঝুমুর আক্তার বলেন,আমার সন্তানকে বরিশাল থেকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইনিষ্টিটিউটে পাঠালে সেখানে তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। বাম হাত অবশ হয়ে যায়।বর্তমানে আমার ছেলেকে নিয়ে সেখানে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। আসামীরা এই ঘটনার পরে কোন খোজঁ খবর নেয়নি। আমি আসামী শিরিন আক্তারের নিকট কান্নাকাটি করলেও কোন গুরুত্ব দেয়নি। ১৪ ডিসেম্বর আসামীদের আইনী নোটিশ দিলেও তারা নোটিশ গ্রহন করেনী। ঝুমুর বলে,আমার সন্তানটি জীবনেরতরে প্রতিবন্ধী হয়ে গেল,তারা অনেক অর্থশালী টাকা দিয়ে সকলকে কিনে নেয়।

বাদীর আইনজীবী, নিজাম উদ্দীন বলেন,অমানবিক ঘটনা এটি।একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শেষ করে দেয়া হয়েছে। এধরনের মামলা বরগুনা প্রথম। আদালত বাদীর মানবিক আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে আদেশ দিয়েছেন।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: