প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ গোলাম রব্বানী

খুলনা প্রতিনিধি

সচিবকে পেটানোর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

   
প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, ২৩ মার্চ ২০২২

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কর্মরত সচিব ইকবাল হোসেনকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার (২৩ মার্চ) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির খুলনা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি মো. জিয়ারাত হোসেন বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আমাদের সহকর্মী ইউপি সচিব মো. ইকবাল হোসেনকে সন্ত্রাসী কায়দায় বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মক জখম করেছেন। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি অবিলম্বে হামলাকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আরও বলেন, আমরা খুলনা জেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে থেকে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তৃণমূল জনগোষ্ঠিকে সরকারি সেবা প্রদান করে থাকি। আমরা ইউপি সচিব ও হিসাব সহকারী এবং উদ্যোক্তাগণ দিন-রাত কাজ করে জনগণের বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকি। এছাড়া এনজিও’র সাথে সমন্বয়সহ প্রতিদিন পাহাড় পরিমাণ কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকতে হয়। অনেক সময় দুপুরের খাবার রাতে বাসায় যেয়ে খেতে হয়। এরপরে অফিসের কাজ বাসায় এনে রাতেও করতে হয়। কারণ ইউনিয়ন পরিষদসমুহে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এভাবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের সেবায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি জানান, আমাদের সহকর্মী মো. ইকবাল হোসেন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে কর্মরত। গত ২১ মার্চ নিয়মিত অফিসের কাজ সমাপ্ত করে বিকাল ৫টার পরে তিনি অফিস থেকে বাড়ীতে ফিরে যান। এরপরে চেয়ারম্যান সাহেব লোক পাঠিয়ে তাকে বাড়ী থেকে ইউনিয়ন পরিষদে ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করেন এবং নানান হুমকি দেন। মোবাইল কেড়ে নিয়ে যোগাযাগ বন্ধ করে দেন।

এতে তার হাতে বাম হাত ভেঙ্গে যায় এবং ডান হাত ফ্রান্সার হয়েছে। গায়ে মারপিটের চিহ্ন আছে এবং মাথা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমাদী ইউনিয়নের কর্মরত ইউপি সচিব কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবহিত করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় আমরা খুলনা জেলার ইউপি সচিব কর্মস্থলে ভীতের মধ্যে আছি।

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তার স্বার্থে মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক উল্লেখিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি জানান তারা। গতকাল মঙ্গলবার (২২ মার্চ) এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছিল তারা। সংবাদ সম্মেলনে খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নের প্রায় সকল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব উপস্থিত ছিলেন

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় খুলনার কয়রা উপজেলার ৪নং মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে সচিব মো. ইকবাল হোসেনকে নিজ কার্যালয়ে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। তবে চেয়ারম্যান মারপিটের বিষয়টি অস্বিকার করেন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: