চবিতে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে জাবিতে মানববন্ধন

   
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৩ জুলাই ২০২২

মো. আবু দারদা লিমন, জাবি থেকে: চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এর ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এর নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে পেশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ দফা দাবিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়নকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন ও কার্যকর করতে হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে, জাবি, চবিসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমার প্রথা বাতিল করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ সর্বত্র নারীর নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় জাবি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচী বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন কি ঘটেছে।কিভাবে ঘটনাগুলো ঘটছে আমাদের দেশে, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায়। পদ্মাসেতুর নাটবল্টু খুললে তরিৎ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিন্তু যেসব ঘটনায় আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত সেখানে আমাদের আইন তার গতি হারায়। দোষীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের বাচাঁনোর চেষ্টা চলছে।’

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই পুরাতন গল্পগুলো বারবার ফিরে আসে- নারী নীপিড়ন, শিক্ষার্থী নিপীড়ন। আমাদের রাষ্ট্র,সমাজ এই নিপীড়নের বৈধতা দিচ্ছে।শিক্ষিত সমাজ এর বৈধতা দিচ্ছে। আপনারা যতবার নিপীড়নমূলক সমাজের কথা বলবেন ততবার আমরা প্রগতির পতাকা তুলবো।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ মেয়েকে ধর্ষন করার পরও মানিক আওয়ামি লীগের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়। শাসন ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের কাছে এই অন্যায়গুলো দুষ্টামি মনে হয়। প্রত্যেকটা অন্যায়ের হিসাব আপনাদের দিতে হবে।”

জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মৌটুসি জোবায়দা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আজকে আমরা দাড়িয়েছি।আমাদের দাবী দাওয়ার সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবীর মিল রয়েছে। রাত ১০ টার মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে এটা প্রহসন ছাড়া কিছু না। আমরা চাই শুধু দোষীদের গ্রেফতার না বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি বন্ধ হোক।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়ন এর সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘যদি অই নারী ভয় পেতো, তাহলে এই ঘটনা ধামাচাপা পরে যেতো। যদি এই ঘটনা পঞ্চগড়ে বা রাঙামাটিতে হতো তাহলে এই ঘটনা কেউ জানতো না। এই অবস্থা কেন? কারন এই সমাজ, এই দেশ নারীকে সন্ধার পর ঘরে ঢুকিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চায়। নারীর পোশাক নিয়ে সরকার,দেশ সমাজ প্রশ্ন তুলতো। জাহাঙ্গীরনগরে আমরা দেখেছি রাত দশ টার পর হলে ঢুকার কারনে প্রশাসন তার পরিবারের কাছে নালিশ জানায়। একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি যদি এই আচরন করে তাহলে বাকিরা কি করবে? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি ঘটনার বিচারের জন্য আমাদের ৩৭ দিন মিছিল করতে হয়েছে। বিচারের জন্য কেন বারবার রাস্তায় নামতে হবে?’

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: