প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

বিদেশিদেরা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা ধমক দিবে বিশ্বাসযোগ্য নয়: সিইসি

   
প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, ২৫ জুলাই ২০২২

মেহেদী হাসান হাসিব, নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, অন্য কোনো দেশ আমাদের দেশকে বা আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেবে বা ধমক দেবে এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সোমবার (২৫ জুলাই) নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন,আরেকটা বিষয় অনেকেই বলেন আমি জানিনা, যে দেশের বাইরে থেকে যদি কোনো সমর্থন আসে, সেটা আমরা কিছুই বলতে পারি না। দেশের বাইরে থেকে কোনো হুমকি, ধামকি আসে কি-না, সেটা আপনারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেল করবেন। নির্বাচন কমিশনের এক্ষেত্রে কোনো কিছুই নেই। এটা আসার কথাও না। অন্য কোনো দেশ আমাদের দেশকে বা আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেবে বা ধমক দেবে এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় না। হলেও এটা মাঠে রজনৈতিকভাবে আপনাদের ফেইস করতে হবে।

সিইসি বলেন, আপনাদের সব সময় আহ্বান জানাবো যে নির্বাচনে আসুন। আপনারা না এলে নির্বাচন করবো না এ কথা নির্বাচন কমিশন কখনোই বলে নাই। কিন্তু যেহেতু আমরা গণতন্ত্রে, নির্বাচনে বিশ্বাস করি, এটা বহুদলীয় গনতন্ত্র যদি দ্বিদলীয় বা তিন দলীয় ব্যবস্থা হতো তাহলে একটা প্রশ্ন থাকতো।

নির্বাচনি প্রচারে সমতার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা গরীবের কথা বলেছেন যারা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না। আপনারা বড়লোক যারা, এটা একটা রিয়েলিটি। এতো বড় একটা বাস্তবতা সত্তেও সেটা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এটাকে ওভারকাম করা কঠিন, আপনারা যদি বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারতেন। বিত্তের একটা শক্তি আছে, অর্থের একটা শক্তি আছে। আপনার হয়তো বিশ লক্ষ টাকা খরচ করার সামর্থ্য আছে, কিন্তু বাহরে খরচ হচ্ছে ২০ কোটি টাকা, সেটা তো আমরা চোখে দেখিনা।

সংবিধান সংশোধন হলে তা নিয়েও উদ্বেগ নেই বলে সিইসি বলেন, অনেকে বলেন ইসিকে শক্তিশালী করতে হলে চার-পাঁচটা মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করলেও যে আমরা নিতে পারবো, তা মনে হয় না। সংবিধান সংশোধন করলে হয়তো নিতে পারবো। আদারওয়াইজ সম্ভব হবে না। কারণ কেবিনেটের একটা বিষয় আছে, কাদের নিয়োগ হবে কিভাবে নিয়োগ হবে, সেটা আমাদের এখতিয়ারে নেই। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, এটা কিন্তু মন্ত্রণালয় নয়। হোম মিনিস্টার বা আরেকটা মিনিস্টার হয়ে যাবো, সেটা আরেকটা সংকট হয়ে যাবে। সেটা আপনাদের বিষয়।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা চেষ্টা করবো আমাদের যে আইন কানুন আছে, পর্যাপ্ত ক্ষমতা সেখানে আমাদের দেওয়া আছে। হয়তো সে ক্ষমতাগুলো অতীতে সঠিকভাবে, আমাদের বিনীত ধারণা, যে সেই ক্ষমতাগুলো হয়তো সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। সেই বিধি বিধানটাই আমরা যাতে সঠিকভাবে করতে পারি, সেই নজরদারিটা আপনারা আমাদের ওপর করতে পারেন, আমাদের জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব যেন গড়ে ওঠে।

বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা ইসির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে বা কোনো বিশেষ দলের ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকে কোনো সমর্থন যদি থাকে সেক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন? যদি এমন কোনো কথা উঠে আছে এটাও আলোচনার মধ্যে থাকার দরকার। এমনও আছে দেশের বাইরেও দলের অফিস আছে। আমারেদর সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় কিনা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচনগুলো কিভাবে হয়েছে, দেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি কি সমস্যাগুলো রয়েছে এবং মুখোমুখী হই- এ নিয়ে তো আমরা কথা বলি। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার-আমাদের দেশে পলিটিকস এমন হয়ে গেছে যে- বড় দেশগুলো আমাদেরকে এমনকি উপদেশ না, ধমক পযন্ত দেয়। এ পরিস্থিতে আমরা যেনো ইসির পাশে দাঁড়াতে পারি। এক্ষেত্রে এটা আমাদের সার্বভৌম, মর্যাদার বিষয় হয়ে দাড়ায়। এ জন্যে আপনাদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই, জাতির মযাদা রক্ষা করতে চাই। এ বিষয়গুলো দেখা দরকার।

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, ইভিএম মেশিন নিয়ে সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে আস্থাহীনতা। প্রায় ২০০টির মতো নির্বাচন করেছি। আপনারা মাঠ লেবেলে খোঁজ নেন। কারো আঙ্গুলের ছাপ না মিললে আমরা ভিডিও কলে কথা বলেও সমাধান করি।

তৃণমূলের যেখানে যে ঘটনা ঘটে আপনারা দেখার বিষয় হচ্ছে আমরা ব্যবস্থা নিই কি-না। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। সংলাপে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে দলটির নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল, পাঁচ নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বদরুদ্দোজা সুজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলীম লীগের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও এলডিপি সোমবারের সংলাপে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে।

ইমদাদ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: