প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কামরুল হাসান অভি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাবির আইন বিভাগের ছাত্রীর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে

   
প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, ৩০ জুলাই ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের বিভাগের রিক্তা আক্তার (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী ইসতিয়াক রাব্বিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাত বারোটার দিকে নগরীর ধরমপুর পূর্বপাড়ার একটি বাসা থেকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিক্তা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালির জোতপাড়া গ্রামে।

অভিযুক্ত রাব্বি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে বিষয়টি শুনেছি। আমি হাসপাতালেও গিয়েছিলাম। এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যাতে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, দুই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ফলিত গনিত বিভাগে ইসতিয়াক রাব্বি নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। কলেজ জীবন থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তারা দুইজনই ব্যাচমেট। একবছর ধরে তারা দুইজন বাসা ভাড়া করে একসাথে থাকছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক সহপাঠী বলেন, ‘আমি রিক্তার লাশ দেখেছি। তার কানের কাছে কালো দাগ ছিলো। হয়তো সেখানে জোড়ে আঘাত করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যা হতে পারে।’

শনিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, সেখানে আইন বিভাগের সভাপতি হাসিবুল আলম প্রধানের সঞ্চালনায় এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবা কেয়া বলেন, আমরা এমন মৃত্যু কোনো মেয়ের চাই না। দেশের প্রতিটি ঘর নারীদের নিরাপদ আশ্রয় হোক। আমাদের এই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক। একই সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন এই অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা তার পরিবারকে সহায়তা করবো। যাতে দ্রুত তদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে আমরা ছেলেটার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করবো। এছাড়া রিক্তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

শিক্ষার্থী রিক্তা আক্তারের বাবা লিয়াকত আলী বলেন, আমি একজন চাষি মানুষ। আমাদের পরিবার থেকে কেউ আগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসেনি। আমার একমাত্র মেয়ে এখানে এসেছে। তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত হত্যাকারীদের সঙ্গে কোনো আপোস করবো না। আমি মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে তার মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জানতে চাইলে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ‘রাত ১২ টার দিকে নিহতের স্বামীসহ আরো কয়েকজন তাকে মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে পারছি না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে জানানো যাবে। যার কারণে বলা যাচ্ছে না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ইসতিয়াককে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: