প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ইয়ানুর রহমান

যশোর প্রতিনিধি

শার্শার খালে-বিলে পুকুর নদীতে পানি নেই, পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

   
প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, ৩০ জুলাই ২০২২

কয়েক বছর ধরেই পাটের দাম পেয়েছে ভাল। তাইতো বেশি লাভের আশায় এ বছরও বেশি করে পাট চাষ করেছেন কৃষকরা। কিন্ত কৃষকদের সেই আশা আজ নিরাশায় পরিণত হতে চলেছে। কেননা আষাঢ় পার হয়ে শ্রাবণের মাঝামাঝি সময় এসেও দু’ এক পশলা ছাড়া ভারি বৃষ্টির দেখা নেই। গ্রামের খানাখন্দ, খাল বিল ডোবা নালাসহ পাট পঁচানো সব ধরনের জলাশয় পানির অভাবে শুকিয়ে পড়েছে।

এদিকে গত কয়েক দিনের কাঠফাঁটা রোদে ক্ষেতের পাটও শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি নেই তাই কৃষকেরা ক্ষেতের পাট কাটতেও পারছেন না। উপায় না পেয়ে কেউ কেউ বাড়ির পুকুরের হাঁটু পানিতেও পাট জাগ দিচ্ছেন। আবার অনেকে স্যালোমেশিনে খানাখন্দে যত সামান্য কিছু পানি তুলে কাঁদা পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন পাট। যাদের কোনো উপায় নেই তারা দূরের গ্রামের জলাশয় ভাড়া নিয়ে পাট পঁচানোর চেষ্টায় আছেন। এতে তাদের বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে এ বছর পাট নিয়ে কোনো সুখবর দেখছেন না শার্শার কৃষকেরা।

সরেজমিনে শার্শার বিভিন্ন মাঠে গেলে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাট ক্ষেতেই দাঁড়িয়ে আছে। তবে প্রচণ্ড খরায় এ পাটগুলো শুকাতে শুরু করেছে। আবার কোনো কোনো কৃষক পাট কেটে খানাখন্দের পাশে ফেলিয়ে রেখেছেন। তারা বৃষ্টির আশায় চেয়ে আছেন। খানাখন্দে একটু পানি জমলেই সেখানে পাট পঁচাতে দেবেন। তার আগে অনেক পাট শুকিয়ে জ্বালানিতে পরিণত হচ্ছে। শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ১ হাজার ৭শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

চাষীরা জানায়, আষাঢ় শেষে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময় এসে গেলেও জলাশয়ে পানি নেই। প্রকৃতির খামখেয়ালী আবহাওয়ায় প্রখর রোদে শুকিয়ে গেছে খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় ফেঁটে চৌচির। এতে জমিতে উৎপাদিত পাট কেটে তা পঁচানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই বাড়তি টাকা খরচ করে পুকুর ভাড়া বা শুষ্ক পুকুরে পানি দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, এ বছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতিবছর যে খানায় পাট পঁচাতে দেন। সে খানাটি শুকিয়ে ফেঁটে চৌচির। তাই বাধ্য হয়ে পুকুরের মাছ বিক্রি করে সেখানে জাগ দিচ্ছেন।

দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের বজলুর রহমান জানান, তাদের বাড়ির পাশে ডোবা খানায় প্রতি বছর পাটের জাগ দিতাম। এ বছর পানি না থাকায় পাট পচানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। এদিকে জমিতে পাট গাছ মরা ধরেছে। এভাবে পানি না হলে হয়ত বা পাট শুকিয়ে জ্বালানি করতে হবে। শ্যামলাগাছী কোলনীর জসিম উদ্দিন জানান, ৩৫/৪০ জন পাটচাষি গ্রামের পাশের বেতনা নদীতে প্রতি বছর পাট পচাতেন। এবার পানি না থাকায় তারা পাট কাটতে পারছেনা। মাঠের জমিতেই পাঠ শুকাতে শুরু করেছে।

অধিকাংশ কৃষকের ভাষ্য, আগের দিনের মত গ্রামের পতিত জলাশয় নেই বললেই চলে। এগুলো সব ভরাট করে চাষাবাদের উপযোগী হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হাঁটু পানি কাঁদার মধ্যে ডুবিয়ে পাট পঁচাচ্ছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন আর আগের দিনের মত বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি হয় না। এদিকে প্রত্যন্তাঞ্চলের নদী খালগুলো সব ভরাট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শার্শাসহ পাট উৎপাদনের বিশেষ এলাকা খ্যাত বৃহত্তর যশোরাঞ্চালের সমস্ত নদী ও খালগুলো খনন হওয়া জরুরি। এটা করতে পারলেই সত্যিই ফিরে আসবে সোনালী আঁশের সেই সোনালী দিন।

শার্শা উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা অমল কুমার জানান, পাট পঁচাতে বৃষ্টির পানির কোনো বিকল্প নেই। কিন্ত এবছর বর্ষা মৌসুমে পানি নেই বললেই চলে। ফলে পাট পঁচাতে পারছেন না কৃষকেরা। কিন্তু রিবন রেটিং পদ্ধতিতে অল্প পানিতে পাট পঁচানো যায়। তিনি বলেন, রিবন পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: