প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনিরুল ইসলাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জুড়ীতে উদ্বোধনের অপেক্ষায় দৃষ্টিনন্দন কয়লারঘাট সেতু

   
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, ৩১ জুলাই ২০২২

ছবি: প্রতিনিধি

একটি সেতুর অভাবে উপজেলা সদরসহ সর্বত্র আসা-যাওয়া করতে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যুগের পর যুগ ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অবশেষে জুড়ী নদীর উপর জালালপুর ও ভরাডহর এলাকার কয়লারঘাট ব্রীজ নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণসহ দু’পারের মানুষের মধ্যে নতুন করে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে।

এলাকাবাসী জানান, এক সময় জুড়ী নদীর উপর এই ঘাটে ব্রীজ না থাকায় উপজেলার মাগুরা, ভরাডহর, পশ্চিম শিলুয়া, পূর্ব শিলুয়া, জালালপুর, জাঙ্গালিয়া, এরালিগুল, কচুরগুল, শুকনা ছড়াসহ আশেপাশের ২০ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অসুবিধাসহ স্কুল কলেজ মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শুধু তাই নয় আশেপাশের শিলুয়া স্কুল এন্ড কলেজ, হাজী আফতাব উদ্দিন আমেনা খাতুন কলেজ, বড়াডহর, শিলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জালালপুর দাখিল মাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রীর যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। আর এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আশেপাশের কৃষকরা মৌসুমী ফসলসহ ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ভারী যানবাহনে করে নিয়ে যেতে পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ।

এছাড়া এ এলাকায় শিলুয়া, রত্না, কুচাই ও এলাপুর চা বাগান থাকায় প্রায় দশ হাজার চা শ্রমিকদের যাতায়াতে দুর্ভোগের সীমা ছিল না। ব্রীজ না থাকায় এ এলাকার হাজার হাজার মানুষের বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে নদী পাড়াপাড় হতে হত। কখনও কখনও অনেকের ভাগ্যে নৌকা না মিললেই নেমে আসতো চরম হতাশা আর ভোগান্তি। বর্ষা মৌসুমে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো ভেঙে অনেকেই আহত হয়েছেন।

অবশেষে মৌলভীবাজার-১ বড়লেখা-জুড়ী আসনের সংসদ সদস্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপির হস্তক্ষেপে ও সু-নজরে এবার নির্মিত হয়েছে জুড়ী নদীর ওপর সেই বহু কাঙ্খিত কয়লারঘাট সেতু। এ সেতু নির্মাণের পর আনন্দের জোয়ারে ভাসছে উপজেলার গোয়ালবাড়ী, সাগরনাল ও ফুলতলা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। এলাকাবাসী এখন শুধু পহর গুণছেন, কখন উদ্বোধন হবে তাদের স্বপ্নের এ সেতু।

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জুড়ী নদীর উপর কয়লারঘাট সেতু নির্মাণ হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো এলাকা। ব্রীজটি নির্মাণ করে দেওয়ায় মাননীয় পরিবেশমন্ত্রীর কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। সেতুটি উদ্বোধন ও চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে এলাকাবাসীর শতশত বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস বলেন, মাননীয় পরিবেশ মন্ত্রীর ছোঁয়ায় পুরো উপজেলার দৃশ্য পটপাল্টে গেছে। এ ব্রীজটি নির্মাণ হওয়ায় এ এলাকার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন একমাত্র যুগ হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ খান রাবি বলেন, সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম শিলুয়া -ভরাডহর প্রাইমারি স্কুল রাস্তায় জুড়ী নদীর উপর এ কয়লারঘাট ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ পান মৌলভীবাজারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআর ইন্টারপ্রাইজ এবং মোঃ জামাল উদ্দিন। মাননীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে কথা বলে উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, এমপি বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাগব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে জুড়ী নদীর এ অংশে কয়লারঘাট ব্রীজটি প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। তিনি বলেন, মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টির কারণে এ কয়লার ঘাট সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। শিগগিরই সেতুটি উদ্বোধন করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: