জাবিতে পকেটমার চক্রের সদস্য আটক

   
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, ৩ আগস্ট ২০২২

মোঃ আবু দারদা লিমন, জাবি থেকে: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পকেটমার চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেয়া তথ্যমতে ঐ পকেটমারের নাম নূর আলম (৩৮)।

বুধবার (৩ আগস্ট) সাভারের গ্যান্ডায় ইতিহাস বাসে সাভারগামী এক যাত্রীর পকেট থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এক পকেটমার চক্র। বিশ্ববিদ্যালয় চক্রের তিনজনের মধ্যে একজনকে আটক করে ঐ বাস যোগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়, এসময় ভুক্তভোগীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বন্ধুরা উপস্থিত হন। পকেটমার চক্রের সদস্য নূর আলমকে টাকা এনে দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হলে তিনি চক্রের অন্য সদস্যদের ফোন দিয়ে বিকাশে চুরিকৃত ৩০ হাজার টাকা ফেরত নিয়ে আসেন। উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পকেটমার কে প্রক্টরের নিকট হস্তান্তর করে দেয়। পরবর্তীতে তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে দেয়।

জানা যায়, পকেটমার নূর আলম রাজধানীর মিরপুবের বাসিন্দা, দেশের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে। দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক নূর আলম আগে রিকশা চালাতো, এবং নিয়মিত হেরোইন সেবন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ভীর ও যানজটকে পুঁজি করেই সে পকেটমারার কাজে নেমেছে বলে জানায়।

এদিকে ভূক্তভোগী জানায়, ‘বাসের সিটে বসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে আসার সময় তিনজন আমার পাশে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে নূর আলম আমার উপর দিয়ে বমি করার অভিনয় করলে আমি সিট থেকে উঠে দাঁড়াই, এই সুযোগে তারা আমার পকেট থেকে ত্রিশ হাজার টাকার বান্ডিলটি সরিয়ে নেয়। বাস থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য যাত্রীদের সহযোগিতায় আমি তাকে ধরতে সক্ষম হই। তাদের চক্রের অন্য সদস্যরা ততক্ষণে টাকা নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে, আটককৃত ব্যক্তি বিকাশে আমাকে ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। এরপর আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরী (প্রধান) গেইটে ধরে আনি।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। এরকম ঘটনা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সাথেও প্রায়ই ঘটে থাকে। কারও মোবাইল চুরি, কারও মানিব্যাগ ছিনতাই ঘটে থাকে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার কথা উচিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযোগকারী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তবে তার পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপরাধীকে আটক করেছে এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছে বিধায় আমরা অভিযোগ নিয়ে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করে দিয়েছি। এখন পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।’

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: