আবদুল কাদির

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিদিন ১২শ রোগীর চিকিৎসা দেন মাত্র ৩৪ জন ডাক্তার

   
প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, ৪ আগস্ট ২০২২

ছবি: প্রতিনিধি

হাসপাতালে ঢুকতেই চোখ পড়বে ডান পার্শে বাহারি রঙের ফুল ফল, ও ভেষজ গাছের বাগান, এছাড়াও কিছুটা সামনেই বাম পাশে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ, তারপর জরুরী বিভাগ, হাসপাতালে প্রবেশ করার আগেই রয়েছে নিরাপদ পানির ব্যবস্হা। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগই আলাদা আলাদা ভাবে ভাগ করা। প্রতিটি বিভাগেই আছে রোগীর চাপ। বর্হিবিভাগ, জরুরী ও ভর্তিকৃত রোগীসহ প্রতিদিন গড়ে ১১শ থেকে ১২ রোগীকে চিকিৎসা দেয় মাত্র ৩৪ জন চিকিৎসক। রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।চিকিৎসা সেবায় দেশের সেরা ১০ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্রেক্সের মাঝে দুই বার পুরস্কার পেয়েছে এই হাসপাতাল।

সরেজমিনে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ওই হাসপাতালে বর্হি বিভাগে টিকেট কাটার জন্য রয়েছে, শিশু, নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা। টিকেট কেটে লাইনে দাড়িয়ে মনোরম পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের জরুরী বিভাগেও রয়েছে রোগীদের চাপ। আবার হাসপাতালের প্যাথলজির সামনে ঝুঁলানো রয়েছে পরীক্ষার ফি। কথা হয় বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দুলাল উদ্দিনের সাথে। তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি কোমরের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসছিলাম। টিকেট কেটে ডাক্তার দেখায়ছি। হাসপাতাল থেকেই সব ওষুধ দিয়েছেন।

ছবি: প্রতিনিধি

উপজেলার চড়াত পাখিয়া এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে সেলিনা খাতুন বিডি২৪লাইভকে বলেন, গত কয়েকদিন যাবত শরীর জ্বালাপোড়া করে। তাই, এখানে ডাক্তার দেখাইতে আইছিলাম। ডাক্তার দেখে ওষুধ লিখে দিছে, ওষুধ হাসপাতাল তেই দিছে। একই এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বিডি২৪লাইভ কে বলেন, বুকের ব্যথা ও পেটের সমস্যা নিয়ে টিকেট নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার দেখে এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে দিয়েছেন।

এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি হাসপাতাল থেকেই করে দিবে। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার ওষুধ লিখবে বলেও জানান তিনি। হাসপাতাল সুত্র জানায়, নিয়মিত সিজারিয়ান সহ বিভিন্ন রোগীর অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হচ্ছে হাসপাতালটিতে। মেডিসিন, চোখ, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজির চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। রয়েছে প্রতিটি বিভাগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চক্ষু বিভাগ অনলাইনের মাধ্যমে চালু রাখা রয়েছে, তবে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অর্থোপেডিক্স বিভাগ চালু থাকলেও নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

হাসপাতালে প্রথম শ্রেণীর নয় জন ডাক্তার, দ্বিতীয় শ্রেণীর দুই জন, তৃতীয় শ্রেণির ৩ জন, চতুর্থ শ্রেণীর তিন জন পদ শুন্য রয়েছে।হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে কিডনি সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বৃদ্ধা রহিমা বেগম। উনার মেয়ে পারভিন আক্তার বিডি২৪লাইভকে বলেন, মায়ের কিডনির অপারেশনের পর ইনফেকশন হয়। পরে এই হাসপাতালে ভর্তি হই, এখানে নিয়মিত ডাক্তাররা এসে ড্রেসিং করেন। ভর্তির পর থেকে তিন ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। মা আগের চাইতে কিছুটা ভাল আছেন। ওষুধ কিছু হামপাতাল থেকেও দেয়া হচ্ছে আবার কিছু ওষুধ বাইরে থেকেও কিনতে হয়েছে।

জ্বর ও পেটের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ বছর বয়সী আপন মিয়া। তার মা নারগিস আক্তার বলেন, জ্বর ও পেটের সমস্যার সমস্যার কারণে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকেও দিয়েছে আবার কিছু ওষুধ কিনতে হয়েছে। এখানে সকাল, বিকাল, দুপুরে ডাক্তার ও নার্স আছে। তারা নিয়মিত রোগীর খোঁজখবর নেন বলেও জানান তিনি।

ছবি: প্রতিনিধি

পিঠে ফোড়া নিয়ে চারদিন যাবত হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন আব্দুল মোতালেব। তার মেয়ে মনি আক্তার বলেন, বাবার পিঠে ফোড়া হয়েছে। কিন্তু, ওনার ডায়াবেটিস থাকায় ফোড়া কাটতে পারছেন না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসলে ফোড়া কাটা হবে। তাই, হাসপাতালে বাবাকে ভর্তি করিয়েছি। এখানে ডাক্তার নিয়মিত আসে, ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দিচ্ছেন। তাছাড়া হাসপাতাল থেকে দেয়া খাবারের মান অনেক ভাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বিডি২৪লাইভকে বলেন, ডিজিটাল সহ তিনটা এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, ইউরিন, ব্লাড টেষ্ট সরকার নির্ধারিত ফি’তে করা হচ্ছে। এখানে থেলাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালন বেড এবং ২৫০ ব্যাগ রক্ত রাখার ফ্রিজের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩২ জন থেলাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, দিনে দিনে সেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগী বেড়েছে। তাই, হাসপাতালটাকে আমরা নতুন ভাবে ঢেলে সাজিয়েছি। হাসপাতালের প্রতিটা বিভাগ আলাদা করা হয়েছে। হাসপাতালের গাইনী ও লেবার ওয়ার্ড আলাদা করেছি। হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা। অপারেশন থিয়েটার রয়েছে দু’টি। একটি সিজার ও অন্যটি সাধারণ অপারেশনের জন্য। গত বছর আগস্ট মাস থেকে সিজার চালু হয়েছে এর পর থেকে আমাদের হাসপাতাল লাগাতার প্রথম অবস্থানে রয়েছে। জুলাই২০২২ মাসে ২২২ টি নরমাল ডেলিভারী ও ৯টি সিজার করা হয়েছে।

ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, কোন কোন ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে, তা আউটডোরে সব সময় তালিকা টানানো থাকে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্যও একই ব্যবস্থা। হাসপাতালে নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে। ঔষধও পাচ্ছে সকল রোগীরা। তবে, সরকারী ভাবে সাপ্লাই না থাকা কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। আমরা গত অর্থ বছরে ৪৭ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়েছি।

জরুরী প্রসূতি সেবায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ- ২০১৯ সালে পুরস্কার এছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার ২০২০ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, আমরা যখন যা চাহিদা পাঠিয়েছি, তখন তাই পেয়েছি এবং সেগুলো কাজে লাগিয়েছি। কাজে লাগানোর কারণেই আমাদের সেবাটা সব সময় সচল ছিল। এতে রোগীর চাপও বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমিসহ ৩৪ জন চিকিৎসক রয়েছে। ৩৪ জন দিয়ে দৈনিক প্রায় ১২শ রোগীর সেবা দেয়া খুব কষ্টের কাজ। যেমন ধরেন, একজনের পক্ষে একদিনে ৬০ থেকে ৭০ টা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা কঠিন হয়ে যায়। একজন এক্সরে টেকনিশিয়ানের পক্ষে তিনটা এক্সরে মেশিন চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু, আমরা কষ্ট করে হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাই, মনে হয় আরও জনবল পেলে সেবার মানটা আরও ভাল হতো।

বিষ খাওয়া ফয়েজ নিং য়ের রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, বিষ খাওয়া ফয়েজনিং য়ের রোগী গুলো আসে তো ওই কেইছ গুলো ওয়াসের যে সিস্টেম টা আসলে একটু তো প্রাইভেসি মেইনটেইন করার জন্যই আলাদা আইসোলেট যায়গায় করেছি রোগীর প্রাইভেসি মেইনটেইন হয়, মহিলা রোগীরাই তো বেশি হয়ে থাকে তাদের সিকরেটলি হয়, চাইনা যে সে সামাজিক ভাবে হেয় পতিপন্য হউক, এরই জন্যই ব্যবস্হা নিয়েছি।

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার গুলো ২০১১ সালে তৈরি করা হয়। এরপর থেকে কোন মেরামত করা হয় নাই। তাই, কোয়াটারগুলোতে কেউ থাকে না। চিঠি দিয়েছি, এই বছরে মেরামত করে দিবেন। পরে ইনশাআল্লাহ সবাই থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: