প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে ৩১ লাখ টাকা ছিনতাই, ক্ষমা চাইলেন ছেলেরা

   
প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২২

৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা জয়নাল আবেদীন। অভাবের তাড়নায় জীবনের শেষ সম্বল জমি বিক্রির ৩১ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে। তবে পথে ছিনতাইকারীর হামলা। ছিনতাইকারীরা আর কেউ নয়, নিজের তিন ছেলে। সঙ্গে কয়েকজন ভাড়াটে লোক। বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে ছিনিয়ে নেয়া হয় সব টাকা। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে জখম করে বাবাকে। গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদীতে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত তিন ছেলের নাম আবদুল হানিফ, আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। গতকাল শুক্রবার (১২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর থেকে জয়নাল মিয়ার ছেলেদের এবং তাঁদের সহযোগী সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সেদিন বাবার চিৎকার শুনে ছুটে এসে ভাইদের হাতে মার খেয়েছিলেন ছোট বোন ও তার স্বামীও। ওই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির গুলশান বিভাগ।

গ্রেফতারের পর  নিজেদের দোষ স্বীকার করেন অভিজুক্ত সন্তানরা। এ ঘটনার জন্য ক্ষমা ও চান তারা। তারা  বলেছেন, সন্তান হিসেবে এটা জঘন্য কাজ, কোনো সন্তান যেন বাবার সঙ্গে এমন কাজ না করে। এ সময় ক্ষমা চেয়ে কেয়ামতের ময়দানে তারা মা-বাবার শাফায়াতও প্রার্থনা করেন। ডিবি পুলিশ জানায়, রাজধানীর মানিকদী এলাকায় বৃদ্ধ জয়নাল মিয়ার বসতভিটা। স্ত্রীসহ সেখানেই থাকেন তিনি। ছেলেদের স্ত্রীরা বাবা-মাকে পছন্দ না করায় তিন ব্যবসায়ী ছেলে দুজনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সন্তানেরা মারধর করার পর জয়নাল মিয়া ও হানুফা বেগম একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

পরবর্তীতে গত ২৮ জুন জয়নাল মিয়া বসতভিটার জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকা ব্যাগে নিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। একপর্যায়ে মানিকদীতে বাসার কাছে পৌঁছালে আবদুল হানিফ তাঁর অপর দুই ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা জয়নালকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় জয়নালকে তাঁর জামাতা রক্ষা করতে এলে পিটিয়ে তাঁর পা ভেঙে দেন তাঁরা। একপর্যায়ে বৃদ্ধ মা এগিয়ে এলে তাঁকেও বেধড়ক পেটান সন্তানেরা।আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির গুলশান বিভাগ।

পরবর্তীতে বাবার এই ৩১ লাখ টাকা ভাগ করেছিলেন অভিজুক্ত ৩ ছেলে। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, বাবার কাছ থেকে ছিনতাই করা ৩১ লাখ টাকা তিন ভাই ভাগ করে নেন। গ্রেফতারের পর মেজো ছেলে হান্নানকে নিয়ে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ টাকা। এর আগে বড় ছেলের মামা শ্বশুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২২ লাখ টাকা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেই মামা শ্বশুরকেও। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, ছেলেগুলো বখাটে। তার পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও স্ত্রীর  আত্মীয়স্বজনরাও লোভী। তাই বাবা-মাকে ভালোবাসা বা ভরণপোষণের পরিবর্তে তারা স্বামীদের উসকে দিত তাদের নির্যাতন করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, ‘জয়নাল আবেদীনের ছেলেরা কখনোই তাদের বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতেন না। ফলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের এক মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তারা চাচ্ছিলেন তার বাবা মারা যাক। তাহলেই তার সম্পদ তারা ভোগ করতে পারবেন।’

রেজানুল/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: